Hi

০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় উল্লম্ফন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:১৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

সৌদি আরবে চালানো হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে আঘাতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতার প্রভাবে বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিন তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দর ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে লেনদেন হয়েছে। গত ১৮ মে’র পর এটিই তেলের সর্বোচ্চ দাম।

বুধবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সিরিজ হামলা চালায়। দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া সৌদি আরবের একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।

একই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘অবৈধ’ তেল স্থানান্তরের অভিযোগে চারটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। ইরানি বাহিনীর দাবি, তারা এই জাহাজগুলোকে অনুসরণ করছিল। আইআরজিসি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে তিনটি জাহাজ মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরান বলেছে, উসকানি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আরও বড় হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এই উত্তেজনার জেরে সৌদি আরবে অবস্থিত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন থেকে কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো ধাহরানে তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের আপাতত বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায় বিশ্ববাজার ফের অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রায় আট মাস আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যত অবরোধের সময় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল, যা বাজারে ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকট তৈরির শঙ্কা তৈরি করেছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং কিছু বিশ্লেষক দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সে সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সংঘাত চলাকালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর মে মাসের শেষের দিকে দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির আশায় তা ৭১ ডলারে দাঁড়ায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরুর ফলে দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এদিকে কেপলারের তথ্যমতে, পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ এখন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ছাড়িয়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরীয় এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থলপথে তেল পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারে। বৃহস্পতিবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশ দর হারিয়েছে। জ্বালানি ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতিতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে বিভিন্ন কোম্পানি। এর আগে বছরের শুরুতে মুনাফা অর্জনের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা থেকেও সরে আসতে বাধ্য হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।

সৌদিগামী ১৩৫ ফ্লাইটে সূচিজট, চরম ভোগান্তিতে ২০ হাজার যাত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় উল্লম্ফন

আপডেট : ০৮:১৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে চালানো হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে আঘাতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতার প্রভাবে বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিন তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দর ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে লেনদেন হয়েছে। গত ১৮ মে’র পর এটিই তেলের সর্বোচ্চ দাম।

বুধবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সিরিজ হামলা চালায়। দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া সৌদি আরবের একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।

একই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘অবৈধ’ তেল স্থানান্তরের অভিযোগে চারটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। ইরানি বাহিনীর দাবি, তারা এই জাহাজগুলোকে অনুসরণ করছিল। আইআরজিসি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে তিনটি জাহাজ মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরান বলেছে, উসকানি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আরও বড় হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এই উত্তেজনার জেরে সৌদি আরবে অবস্থিত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন থেকে কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো ধাহরানে তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের আপাতত বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায় বিশ্ববাজার ফের অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রায় আট মাস আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যত অবরোধের সময় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল, যা বাজারে ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকট তৈরির শঙ্কা তৈরি করেছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং কিছু বিশ্লেষক দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সে সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সংঘাত চলাকালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর মে মাসের শেষের দিকে দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির আশায় তা ৭১ ডলারে দাঁড়ায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরুর ফলে দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এদিকে কেপলারের তথ্যমতে, পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ এখন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ছাড়িয়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরীয় এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থলপথে তেল পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারে। বৃহস্পতিবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশ দর হারিয়েছে। জ্বালানি ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতিতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে বিভিন্ন কোম্পানি। এর আগে বছরের শুরুতে মুনাফা অর্জনের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা থেকেও সরে আসতে বাধ্য হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।