Hi

০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে উদ্বেগে পরিবার

সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অভিযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মেয়ে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি। মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা সুইটির পরিণতি নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তার স্বজনরা। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানি না। সৌদির আরবে দুই প্রবাসী মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের পর থেকে বাংলাদেশে এ বিষয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে হওয়া সুইটি চার বছর আগে দেড় লাখ টাকা ধারদেনা করে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব যান। দিনমজুর বাবা ফজল মিয়ার পাঁচ মেয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। প্রবাসে যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস তিনি বাড়িতে টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফোন করে তিনি পরিবারকে জানান যে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি।

সুইটির বাবার দাবি, মক্কায় অন্য নারী সহকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়। এরপর প্রায় এক বছর তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তবে ১৫ দিন আগে জেল থেকে ফোন করে সুইটি জানান, তিনি দুই মাস পর মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরবেন। আদালতে তার কোনো বিচার বা সাজা হওয়ার কথা তিনি পরিবারকে জানাননি। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’।

সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে মেয়ের সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। মেয়ে জীবিত নাকি মৃত, সেই সত্য জানতে চান তারা। দুদিন আগে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেলেও সরকারিভাবে কিছুই জানানো হয়নি। এদিকে স্থানীয় মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর ও মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুনও জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারি কোনো দপ্তর থেকে তাদের কাছে কোনো তথ্য আসেনি। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই।’। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সৌদিতে সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে উদ্বেগে পরিবার

আপডেট : ০৭:১৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অভিযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মেয়ে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি। মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা সুইটির পরিণতি নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তার স্বজনরা। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানি না। সৌদির আরবে দুই প্রবাসী মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের পর থেকে বাংলাদেশে এ বিষয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে হওয়া সুইটি চার বছর আগে দেড় লাখ টাকা ধারদেনা করে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব যান। দিনমজুর বাবা ফজল মিয়ার পাঁচ মেয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। প্রবাসে যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস তিনি বাড়িতে টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফোন করে তিনি পরিবারকে জানান যে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি।

সুইটির বাবার দাবি, মক্কায় অন্য নারী সহকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়। এরপর প্রায় এক বছর তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তবে ১৫ দিন আগে জেল থেকে ফোন করে সুইটি জানান, তিনি দুই মাস পর মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরবেন। আদালতে তার কোনো বিচার বা সাজা হওয়ার কথা তিনি পরিবারকে জানাননি। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’।

সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে মেয়ের সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। মেয়ে জীবিত নাকি মৃত, সেই সত্য জানতে চান তারা। দুদিন আগে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেলেও সরকারিভাবে কিছুই জানানো হয়নি। এদিকে স্থানীয় মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর ও মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুনও জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারি কোনো দপ্তর থেকে তাদের কাছে কোনো তথ্য আসেনি। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই।’। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে।