Hi

০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই উচিত জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৪:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ জন দেখেছে

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্থিরতা সৃষ্টির নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতো এবারও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর জবাব দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, অথচ ষড়যন্ত্রকারীরা এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ভেস্তে দিতে সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ বছর যারা মানুষের ভোটের অধিকার হরণ ও সম্পদ পাচার করেছে, তারা আজ সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া এই গোষ্ঠী এখন দেশের মিল-কারখানা ধ্বংস করতে চাচ্ছে। কারণ আজ সময় এসেছে দেশ গঠন করার, আজ সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার।’’। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘‘যারা বিগত ১৫/১৬ বছরে দেশের অবস্থার, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা এদেশ থেকে মানুষের অর্থ সম্পদ বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, আমরা দেখেছি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে জনতার অভ্যুত্থানে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

শিল্পকারখানাকে দেশের সম্পদ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক এবং তাদের সন্তানরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াতে তিনি খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমরা দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে সব শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করব। আমাদের মূল লক্ষ্য—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এই দেশের শ্রমিক ভাইদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে কোনভাবেই সেই ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ না পায়। কিভাবে দেশের সমস্যার সমাধান করা যায়, কিভাবে দেশের শিল্পের প্রসার ঘটানো যায়, কিভাবে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদার করা যায় যাতে করে দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারে।’’।

শ্রমিকদের মজুরি বিষয়ক দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে, যা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি আরো বলেন, ‘‘‘মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে।

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক সময়ের প্রধান শিল্পাঞ্চল খুলনাকে পুনরায় সমৃদ্ধ করতে খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে হাজার হাজার নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীর পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে তিনি খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।

নতুন ট্রাফিক ও সম্পত্তি আইন পাস করল কাতারের শুরা কাউন্সিল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই উচিত জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৪:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্থিরতা সৃষ্টির নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতো এবারও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর জবাব দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, অথচ ষড়যন্ত্রকারীরা এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ভেস্তে দিতে সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ বছর যারা মানুষের ভোটের অধিকার হরণ ও সম্পদ পাচার করেছে, তারা আজ সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া এই গোষ্ঠী এখন দেশের মিল-কারখানা ধ্বংস করতে চাচ্ছে। কারণ আজ সময় এসেছে দেশ গঠন করার, আজ সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার।’’। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘‘যারা বিগত ১৫/১৬ বছরে দেশের অবস্থার, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা এদেশ থেকে মানুষের অর্থ সম্পদ বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, আমরা দেখেছি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে জনতার অভ্যুত্থানে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

শিল্পকারখানাকে দেশের সম্পদ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক এবং তাদের সন্তানরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াতে তিনি খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমরা দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে সব শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করব। আমাদের মূল লক্ষ্য—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এই দেশের শ্রমিক ভাইদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে কোনভাবেই সেই ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ না পায়। কিভাবে দেশের সমস্যার সমাধান করা যায়, কিভাবে দেশের শিল্পের প্রসার ঘটানো যায়, কিভাবে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদার করা যায় যাতে করে দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারে।’’।

শ্রমিকদের মজুরি বিষয়ক দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে, যা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি আরো বলেন, ‘‘‘মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে।

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক সময়ের প্রধান শিল্পাঞ্চল খুলনাকে পুনরায় সমৃদ্ধ করতে খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে হাজার হাজার নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীর পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে তিনি খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।