Hi

০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০২:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ জন দেখেছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ও আশপাশের এলাকায় অনেক মিল-কারখানা ছিল।

তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ এবং বন্দরের সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

বৃহস্পতিবার মোংলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় তিনি সেখানে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের সক্ষমতা ও আধুনিকায়ন দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদারে সহায়ক হবে। সরকার একই সঙ্গে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজকেও অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মোংলা বন্দর জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি পরিপূরক বন্দর হিসেবে কাজ করবে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, আজকের এ উদ্যোগ দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে টেকসই আর্থসামাজিক মূল্য সংযোজন করবে।

প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বন্দরসেবার মানোন্নয়ন, পণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় হ্রাস, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর। তিনি পরিবেশবান্ধব সেবা ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বনির্ভরতা অর্জনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।পাশাপাশি বিপজ্জনক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে মোংলা বন্দরকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। মোংলা ও পাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন কারখানার জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একসময়ের শিল্পসমৃদ্ধ খুলনা অঞ্চলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি জানান। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চায়।

চীনের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এটি পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং সারা দেশের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০২:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ও আশপাশের এলাকায় অনেক মিল-কারখানা ছিল।

তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ এবং বন্দরের সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

বৃহস্পতিবার মোংলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় তিনি সেখানে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের সক্ষমতা ও আধুনিকায়ন দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদারে সহায়ক হবে। সরকার একই সঙ্গে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজকেও অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মোংলা বন্দর জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি পরিপূরক বন্দর হিসেবে কাজ করবে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, আজকের এ উদ্যোগ দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে টেকসই আর্থসামাজিক মূল্য সংযোজন করবে।

প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বন্দরসেবার মানোন্নয়ন, পণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় হ্রাস, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর। তিনি পরিবেশবান্ধব সেবা ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বনির্ভরতা অর্জনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।পাশাপাশি বিপজ্জনক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে মোংলা বন্দরকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। মোংলা ও পাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন কারখানার জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একসময়ের শিল্পসমৃদ্ধ খুলনা অঞ্চলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি জানান। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চায়।

চীনের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এটি পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং সারা দেশের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।