দেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট নির্মাণ, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু তৈরি এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৭ মেয়াদে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল বা ইডিসিএফের আওতায় এই প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইডিসিএফের কাঠামোগত চুক্তি চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তহবিলের অধীনে ৩০টি প্রকল্পের জন্য ২৭৮ কোটি ডলারের ঋণ ইতোমধ্যে অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমান সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া বা কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ইডিসিএফ তহবিলের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। জবাবে কেক্সিম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে মেট্রোরেলসহ প্রস্তাবিত তিন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি বিষয়ক দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান। এই আলোচনার অংশ হিসেবে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের একটি সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি সহায়তার প্রশংসা করেন অর্থমন্ত্রী। কোরীয় পক্ষ এআই, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ ইডিসিএফ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দুই পক্ষ কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সাথে কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখছে।
প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কর্মসূচিতে কোরীয় সরকারের অগ্রাধিকার এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনের সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল বা এলএলএম তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া ইয়ংওনের আয়োজনে একটি ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। এ সময় কোরীয় কোম্পানিগুলোকে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ার মূল্য সংযোজনভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
রিপোর্টার নাম: 


























