Hi

০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রী: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট শুরু

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৪ জন দেখেছে

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বিনা খরচে পাঠানোর প্রক্রিয়া আগামী ডিসেম্বরেই শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই প্রথম দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট চালুর প্রত্যাশা করছেন তারা। এই নতুন ব্যবস্থায় বিদেশগামী কর্মীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না; বরং কর্মী পাঠানোর যাবতীয় খরচ বহন করবেন সংশ্লিষ্ট বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাদের প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি অন্যান্য চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেও কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত এফডব্লিউসিএমএস তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই সভায় অংশ নিয়ে তিনি জানান, সরকার এই ব্যবসাকে গুটিকয়েক এজেন্সির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। দেশের সব বৈধ এজেন্সি যাতে সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।

কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র অনলাইনে জমা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক তা সত্যায়িত করার বাধ্যবাধকতা থাকবে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা সম্বলিত অঙ্গীকারনামা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এছাড়া বিদেশে কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে আলাদা সেল গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য কিছু সার্ভিস চার্জও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষা পাবেন।

মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নির্ধারিত ফির বেশি অর্থ নিলে এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যবসাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিতে হবে এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের চেয়ে রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

এসময় বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন সম্পর্কে সচেতন করার ওপরও জোর দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের ফলে বিদেশে বাংলাদেশিদের ভিসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। সভায় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজনের অনিয়মের কারণে পুরো খাত যেন বিতর্কিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৪৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মন্ত্রী: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট শুরু

আপডেট : ০৮:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বিনা খরচে পাঠানোর প্রক্রিয়া আগামী ডিসেম্বরেই শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই প্রথম দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট চালুর প্রত্যাশা করছেন তারা। এই নতুন ব্যবস্থায় বিদেশগামী কর্মীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না; বরং কর্মী পাঠানোর যাবতীয় খরচ বহন করবেন সংশ্লিষ্ট বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাদের প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি অন্যান্য চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেও কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত এফডব্লিউসিএমএস তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই সভায় অংশ নিয়ে তিনি জানান, সরকার এই ব্যবসাকে গুটিকয়েক এজেন্সির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। দেশের সব বৈধ এজেন্সি যাতে সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।

কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র অনলাইনে জমা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক তা সত্যায়িত করার বাধ্যবাধকতা থাকবে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা সম্বলিত অঙ্গীকারনামা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এছাড়া বিদেশে কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে আলাদা সেল গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য কিছু সার্ভিস চার্জও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষা পাবেন।

মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নির্ধারিত ফির বেশি অর্থ নিলে এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যবসাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিতে হবে এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের চেয়ে রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

এসময় বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন সম্পর্কে সচেতন করার ওপরও জোর দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের ফলে বিদেশে বাংলাদেশিদের ভিসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। সভায় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজনের অনিয়মের কারণে পুরো খাত যেন বিতর্কিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।