Hi

০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্লামেন্টে তুরস্কের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশটির পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন লাভ করেছে। এই চুক্তির ফলে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি হিসেবে তুরস্ক সেই দেশকে সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের সেনা পাঠাতে হলে আরও কিছু আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুর্কি পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিলটি পাস হয়। মোট ৫৯২ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ৩৯৮ জন ভোটাভুটিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ২৭৯ জন চুক্তির পক্ষে ভোট দিলেও ১১৯ জন এর বিরোধিতা করেন। এর আগে গত আগস্টে তুরস্ক এই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে প্রথম স্বাক্ষর করেছিল এবং পরবর্তীতে তা অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠানো হয়। চুক্তিতে যৌথ প্রতিরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এতথ্য। শেষ পর্যন্ত ২৭৯ ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেন ১১৯ জন।

চুক্তির নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলো একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো সদস্যদেশ সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে অন্য পক্ষগুলো পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় কাজে লাগিয়ে অবিলম্বে সহায়তা প্রদান করবে। এর লক্ষ্য সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রতিপক্ষকে আগেই নিরুৎসাহিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির এই ধারাটি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে একটি সদস্যদেশের ওপর হামলাকে জোটের সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে তুরস্ক একইসঙ্গে ন্যাটো ও মক্কা চুক্তির সদস্য হওয়ায় সামরিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তুর্কি কর্মকর্তারা তা ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন। চুক্তির এই গুরুত্বপূর্ণ ধারা নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (আর্টিকেল ফাইভ) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী, এই চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যার পর কোনো দেশ চাইলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া বর্তমান সদস্যদেশগুলোর সম্মতিক্রমে অন্য দেশগুলোরও এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে, যার প্রতি সিরিয়া সরকার ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। দু-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহুকে বড় দুঃসংবাদ দিলেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট।

এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির গুরুত্ব বেড়েছে। তবে সৌদি আরবে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের স্পষ্ট করেছেন, তারা হুতিদের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়ানোর কথা ভাবছেন না, বরং সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা। ‘শেখ হাসিনা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন না যে, পাসপোর্ট দিয়ে আনতে হবে’। ক্ষমতা হারানোর পথে নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকট।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত চলছে। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ফের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ওপর ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি উত্তেজনার আঁচ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর এই সংঘাতের উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল। ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক দফা প্রাণঘাতী হামলাও চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। এই সংঘাতও সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার আলোচনার প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ার পর ডেপুটি স্পিকার জেলাল আদান অধিবেশন মুলতবি করেন, যা বৃহস্পতিবার পুনরায় শুরু হয়। তুরস্কের আইনপ্রণেতারা এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পার্লামেন্টে তুরস্কের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

আপডেট : ১১:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশটির পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন লাভ করেছে। এই চুক্তির ফলে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি হিসেবে তুরস্ক সেই দেশকে সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের সেনা পাঠাতে হলে আরও কিছু আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুর্কি পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিলটি পাস হয়। মোট ৫৯২ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ৩৯৮ জন ভোটাভুটিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ২৭৯ জন চুক্তির পক্ষে ভোট দিলেও ১১৯ জন এর বিরোধিতা করেন। এর আগে গত আগস্টে তুরস্ক এই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে প্রথম স্বাক্ষর করেছিল এবং পরবর্তীতে তা অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠানো হয়। চুক্তিতে যৌথ প্রতিরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এতথ্য। শেষ পর্যন্ত ২৭৯ ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেন ১১৯ জন।

চুক্তির নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলো একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো সদস্যদেশ সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে অন্য পক্ষগুলো পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় কাজে লাগিয়ে অবিলম্বে সহায়তা প্রদান করবে। এর লক্ষ্য সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রতিপক্ষকে আগেই নিরুৎসাহিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির এই ধারাটি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে একটি সদস্যদেশের ওপর হামলাকে জোটের সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে তুরস্ক একইসঙ্গে ন্যাটো ও মক্কা চুক্তির সদস্য হওয়ায় সামরিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তুর্কি কর্মকর্তারা তা ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন। চুক্তির এই গুরুত্বপূর্ণ ধারা নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (আর্টিকেল ফাইভ) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী, এই চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যার পর কোনো দেশ চাইলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া বর্তমান সদস্যদেশগুলোর সম্মতিক্রমে অন্য দেশগুলোরও এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে, যার প্রতি সিরিয়া সরকার ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। দু-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহুকে বড় দুঃসংবাদ দিলেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট।

এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির গুরুত্ব বেড়েছে। তবে সৌদি আরবে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের স্পষ্ট করেছেন, তারা হুতিদের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়ানোর কথা ভাবছেন না, বরং সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা। ‘শেখ হাসিনা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন না যে, পাসপোর্ট দিয়ে আনতে হবে’। ক্ষমতা হারানোর পথে নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকট।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত চলছে। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ফের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ওপর ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি উত্তেজনার আঁচ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর এই সংঘাতের উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল। ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক দফা প্রাণঘাতী হামলাও চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। এই সংঘাতও সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার আলোচনার প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ার পর ডেপুটি স্পিকার জেলাল আদান অধিবেশন মুলতবি করেন, যা বৃহস্পতিবার পুনরায় শুরু হয়। তুরস্কের আইনপ্রণেতারা এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।