করবো সমবায়, গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি মাটিরাঙ্গার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে আয়োজিত হয় বিশেষ আলোচনা সভা।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা থৈইউপ্রু মগের সভাপতিত্বে এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুমেন চাকমা। সমবায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সমবায় হলো ঐক্যের শক্তি ও উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। ক্ষুদ্র পুঁজিকে একত্র করে বড় উদ্যোগ গ্রহণ এবং গ্রামের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সমবায় একটি কার্যকর হাতিয়ার। স্থানীয় কৃষি, ব্যবসা ও পরিবহন খাতে সমবায় সমিতিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেন। সভায় পৌর বিএনপির সভাপতি শাহ জালাল কাজল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন, জামায়াতের আমির আবদুল জলিল এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সফল সমবায়ী হিসেবে মাটিরাঙ্গা কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি শাহ জালাল কাজল এবং মাটিরাঙ্গা আদর্শ ট্রাক ও মিনিট্রাক চালক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তিনটি শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতিকে সম্মাননা জানানো হয়। এগুলো হলো—ত্রিপুরা য়াক বাকসা কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেড, মাটিরাঙ্গা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড এবং স্বদেশ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সফল সমবায়ী ও শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতির প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া মাটিরাঙ্গা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে গৃহনির্মাণের জন্য আলেয়া বেগমকে ৮০ হাজার টাকা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য চামেলী ত্রিপুরাকে ৪০ হাজার ও বরত রঞ্জন ত্রিপুরাকে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার নাম: 
























