Hi

০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী ও বিচারপতি নাভানেথাম নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ১২৫তম শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করা, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসাধারণ সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে নাভি পিল্লাই যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদী শাসনের মধ্যে বেড়ে ওঠা নাভি পিল্লাই ব্যক্তিগত জীবনে চরম বঞ্চনার শিকার হয়েও আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতাদের আইনি সহায়তাকারী হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে বিশ্বমঞ্চে মানবিক ন্যায়বিচারের অগ্রদূত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদী শাসনের আমলে এক ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্ম নেওয়া পিল্লাই তরুণ বয়সে চরম বৈষম্য ও সামাজিক বঞ্চনা মোকাবিলা করে আইনজীবী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বর্ণবাদবিরোধী অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তার যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃত হয়।

সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডা বিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিআর) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণহত্যার মামলার বিচারক হিসেবে যুক্ত আছেন।

বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনাল থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধাপরাধের অংশ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া এবং ঘৃণাত্মক প্রোপাগান্ডাকে গণহত্যার উসকানি হিসেবে বিচারিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। বর্তমানে বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা যে চাপের মুখে রয়েছে, তাতে নাভি পিল্লাইয়ের আপসহীন অবস্থান পুরো বিশ্বের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে নোবেল কমিটি মন্তব্য করেছে। আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্রের আদর্শ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক আদালতের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা শান্তিকামী মানুষের কাছে আজীবন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন।

জনপ্রিয়

দিল্লিতে বিক্ষোভের মুখে কড়া নিরাপত্তা ও ইন্টারনেট বন্ধ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

আপডেট : ০৩:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী ও বিচারপতি নাভানেথাম নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ১২৫তম শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করা, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসাধারণ সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে নাভি পিল্লাই যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদী শাসনের মধ্যে বেড়ে ওঠা নাভি পিল্লাই ব্যক্তিগত জীবনে চরম বঞ্চনার শিকার হয়েও আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতাদের আইনি সহায়তাকারী হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে বিশ্বমঞ্চে মানবিক ন্যায়বিচারের অগ্রদূত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদী শাসনের আমলে এক ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্ম নেওয়া পিল্লাই তরুণ বয়সে চরম বৈষম্য ও সামাজিক বঞ্চনা মোকাবিলা করে আইনজীবী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বর্ণবাদবিরোধী অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তার যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃত হয়।

সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডা বিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিআর) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণহত্যার মামলার বিচারক হিসেবে যুক্ত আছেন।

বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনাল থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধাপরাধের অংশ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া এবং ঘৃণাত্মক প্রোপাগান্ডাকে গণহত্যার উসকানি হিসেবে বিচারিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। বর্তমানে বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা যে চাপের মুখে রয়েছে, তাতে নাভি পিল্লাইয়ের আপসহীন অবস্থান পুরো বিশ্বের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে নোবেল কমিটি মন্তব্য করেছে। আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্রের আদর্শ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক আদালতের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা শান্তিকামী মানুষের কাছে আজীবন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন।