Hi

১১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুথিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ জন দেখেছে

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দেশটির ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরব-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হুথিদের চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেন, দেশের মাটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কবল থেকে মুক্তি’ না পাওয়া পর্যন্ত সরকারি বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাবে। একইসঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র হুথিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েক বছরের প্রচেষ্টাতেও তাদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙা সম্ভব হয়নি; উল্টো ইরানের সহায়তায় হুথিরা সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে।

সম্প্রতি বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও লোহিত সাগরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা আকস্মিক এক অভিযানে দখল করে নিয়েছে হুথিরা। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রণালিটি এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। হুথিদের এই অগ্রসরতাকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি অভিযানের ঘোষণার পরপরই হুথিরা পাল্টা হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রায় ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা এই পাল্টা আক্রমণ করেছে এবং এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি বলেন, সংঘাত নিরসনের সকল কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই সরকার এই পাল্টা অভিযানের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মিত্রদের সামরিক সহায়তার আহ্বান জানান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আকাশপথে সৌদি আরব নেতৃত্ব দেবে এবং সরকারি বাহিনী স্থলভাগে অভিযান পরিচালনা করবে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের এই সামরিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। এছাড়া ইউরোপীয় ও আঞ্চলিক দেশগুলো জোটটিকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা প্রদান করছে বলে জানা গেছে। সরকার ও হুথিদের এই নতুন সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয়

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বিভাজন নয়, বড় পরিচয় বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হুথিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের

আপডেট : ০৯:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দেশটির ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরব-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হুথিদের চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেন, দেশের মাটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কবল থেকে মুক্তি’ না পাওয়া পর্যন্ত সরকারি বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাবে। একইসঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র হুথিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েক বছরের প্রচেষ্টাতেও তাদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙা সম্ভব হয়নি; উল্টো ইরানের সহায়তায় হুথিরা সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে।

সম্প্রতি বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও লোহিত সাগরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা আকস্মিক এক অভিযানে দখল করে নিয়েছে হুথিরা। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রণালিটি এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। হুথিদের এই অগ্রসরতাকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি অভিযানের ঘোষণার পরপরই হুথিরা পাল্টা হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রায় ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা এই পাল্টা আক্রমণ করেছে এবং এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি বলেন, সংঘাত নিরসনের সকল কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই সরকার এই পাল্টা অভিযানের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মিত্রদের সামরিক সহায়তার আহ্বান জানান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আকাশপথে সৌদি আরব নেতৃত্ব দেবে এবং সরকারি বাহিনী স্থলভাগে অভিযান পরিচালনা করবে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের এই সামরিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। এছাড়া ইউরোপীয় ও আঞ্চলিক দেশগুলো জোটটিকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা প্রদান করছে বলে জানা গেছে। সরকার ও হুথিদের এই নতুন সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।