Hi

০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালালে বিশৃঙ্খলা: মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় এই মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি নির্বাহী পরিচালককে লক্ষ্য করে বলেন, “আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা, ঘাড় ধরে বের করে দিবো।” তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। আখতারুজ্জামান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হন এবং তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দিলে মেজর আখতারুজ্জামান তাকেও গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া অন্যান্য যাত্রীদের কাছে থাকা পবিত্র জমজমের পানির বোতল ফেলে দেওয়া এবং এয়ারলাইন্স প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলছেন, “ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?”

এজাহারকারী জানান, তার এমন কর্মকাণ্ড একটি কেপিআই বা সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই ঘটনায় পুলিশ দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এই ঘটনার আইনানুগ তদন্ত চালানো হবে। এই ঘটনায় পুলিশ দণ্ডবিধির ১৮৬/১৮৯/২৯৪/৩২৩/৩৫২/৩৫৩/৫০৪/৫০৬ ধারায় (সরকারি কাজে বাধাদান, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে) মামলাটি করেছেন। এদিকে গতকাল বিমানবন্দরের ঘটনার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, অতীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান পাঁচবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সকল পদ হারানো এই নেতা পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বারবার দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়াও হয়েছিল।

জনপ্রিয়

অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে জামায়াত, দাবি প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিবের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শাহজালালে বিশৃঙ্খলা: মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০১:৫৪:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় এই মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি নির্বাহী পরিচালককে লক্ষ্য করে বলেন, “আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা, ঘাড় ধরে বের করে দিবো।” তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। আখতারুজ্জামান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হন এবং তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দিলে মেজর আখতারুজ্জামান তাকেও গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া অন্যান্য যাত্রীদের কাছে থাকা পবিত্র জমজমের পানির বোতল ফেলে দেওয়া এবং এয়ারলাইন্স প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলছেন, “ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?”

এজাহারকারী জানান, তার এমন কর্মকাণ্ড একটি কেপিআই বা সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই ঘটনায় পুলিশ দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এই ঘটনার আইনানুগ তদন্ত চালানো হবে। এই ঘটনায় পুলিশ দণ্ডবিধির ১৮৬/১৮৯/২৯৪/৩২৩/৩৫২/৩৫৩/৫০৪/৫০৬ ধারায় (সরকারি কাজে বাধাদান, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে) মামলাটি করেছেন। এদিকে গতকাল বিমানবন্দরের ঘটনার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, অতীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান পাঁচবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সকল পদ হারানো এই নেতা পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বারবার দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়াও হয়েছিল।