Hi

১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লংমার্চ ছেড়ে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনায় বসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনৈতিক রাজপথের আন্দোলন বা লংমার্চের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের জটিল প্রশ্নের সুরাহা সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে দেশে যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন, তা সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমেই গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে আর যেন কোনো জুলাই জাদুঘর তৈরির মতো পরিস্থিতি না ঘটে, সে বিষয়টিতে তিনি আলোকপাত করেন। সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধীদলের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা চাইলেন সংবিধান সংস্কার করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের উত্থানের পথ বন্ধ করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তৃতা দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সরকারের স্পষ্ট সদিচ্ছার কথা তুলে ধরে তিনি বিরোধী পক্ষকে লংমার্চ কর্মসূচি বর্জন করে সাংবিধানিক সংস্কার টেবিলে আসার পরামর্শ দেন।

প্রস্তাবিত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠন প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচকদের প্রস্তাব অনুযায়ী উচ্চকক্ষ যদি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে গঠিত হয়, তবে সেটির এখতিয়ার, ক্ষমতা ও কর্মপরিধি চূড়ান্ত করা যাবে আলোচনার মাধ্যমেই। এই উচ্চকক্ষ অনির্বাচিত হলে তা নির্বাচিত সিনেটের সমান ক্ষমতা পাবে কি না, সেটিও নির্ধারণের বিষয়। সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে উপস্থিত হয়ে এসব বিষয়ে মতামত দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। উচ্চকক্ষে কোন কোন সংশোধনী যাবে, সেটা আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে; যাবে।

উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নজরুল ইসলামের প্রস্তাবের সঙ্গে ঐকমত্য প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, উচ্চকক্ষের সদস্যদের আলাদা গাড়ি, বাড়ি কিংবা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা না দেওয়াই শ্রেয়। এর পাশাপাশি সংসদীয় ব্যবস্থায় যাতে আইন পাসের গতি মন্থর না হয়ে পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিম্নকক্ষ থেকে পাঠানো বিল উচ্চকক্ষ কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে, তা নির্দিষ্ট করার ওপর জোর দেন তিনি। তা না হলে সংসদীয় ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে। নিম্নকক্ষে পাস হওয়া আইন পর্যালোচনা বা অনুমোদনের জন্য উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে, কত দিন তারা সেটি নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন এবং কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’ (বেসিক স্ট্রাকচার) ধারণার অস্পষ্টতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অতীতে আদেশের মাধ্যমে সংবিধান স্পর্শ করা নিয়ে নিজের পর্যালোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে পরিবর্তন আনা যায় কি না। তিনি বলেন, সংবিধান চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগেও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের ভূমিকা ছিল, তবে সবক্ষেত্রে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করে রাজনৈতিক সমঝোতা। সমঝোতার দলিলে স্বাক্ষর থাকলে তা অঙ্গীকার হিসেবে গণ্য হয়, যা ভঙ্গ করলে প্রতিনিধিরা আইনসভায় রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মুখোমুখি হন।

রাষ্ট্রীয় মূল ভিত্তিগুলোর সুদৃঢ় অবস্থান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে সরকার বিচার বিভাগ, সংবাদমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনসহ মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতায় সম্পূর্ণ আশ্বস্ত। দেশের জনগণই চূড়ান্ত ক্ষমতার মালিক এবং তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমেই প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। এ কারণে বিচারকগণ যাতে পুরোপুরি স্বাধীন থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেন, সেই পরিবেশ সুনিশ্চিত করা হবে।

পরিশেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৃত্রিম বিভাজন না বাড়িয়ে ঐকমত্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন, যেসব বিষয়ে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, তা সংলাপের টেবিলেই শিথিল করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্র পরিচালনা সুষ্ঠু রাখতে বিরোধী দলকে লংমার্চ ছেড়ে সংবিধান সংশোধনের গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্র পরিচালনায় অসুবিধা হতে পারে।

মুমিনুলের জায়গায় সিলেট টেস্টের দলে অমিত হাসান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

লংমার্চ ছেড়ে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনায় বসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৮:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক রাজপথের আন্দোলন বা লংমার্চের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের জটিল প্রশ্নের সুরাহা সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে দেশে যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন, তা সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমেই গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে আর যেন কোনো জুলাই জাদুঘর তৈরির মতো পরিস্থিতি না ঘটে, সে বিষয়টিতে তিনি আলোকপাত করেন। সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধীদলের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা চাইলেন সংবিধান সংস্কার করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের উত্থানের পথ বন্ধ করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তৃতা দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সরকারের স্পষ্ট সদিচ্ছার কথা তুলে ধরে তিনি বিরোধী পক্ষকে লংমার্চ কর্মসূচি বর্জন করে সাংবিধানিক সংস্কার টেবিলে আসার পরামর্শ দেন।

প্রস্তাবিত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠন প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচকদের প্রস্তাব অনুযায়ী উচ্চকক্ষ যদি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে গঠিত হয়, তবে সেটির এখতিয়ার, ক্ষমতা ও কর্মপরিধি চূড়ান্ত করা যাবে আলোচনার মাধ্যমেই। এই উচ্চকক্ষ অনির্বাচিত হলে তা নির্বাচিত সিনেটের সমান ক্ষমতা পাবে কি না, সেটিও নির্ধারণের বিষয়। সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে উপস্থিত হয়ে এসব বিষয়ে মতামত দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। উচ্চকক্ষে কোন কোন সংশোধনী যাবে, সেটা আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে; যাবে।

উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নজরুল ইসলামের প্রস্তাবের সঙ্গে ঐকমত্য প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, উচ্চকক্ষের সদস্যদের আলাদা গাড়ি, বাড়ি কিংবা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা না দেওয়াই শ্রেয়। এর পাশাপাশি সংসদীয় ব্যবস্থায় যাতে আইন পাসের গতি মন্থর না হয়ে পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিম্নকক্ষ থেকে পাঠানো বিল উচ্চকক্ষ কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে, তা নির্দিষ্ট করার ওপর জোর দেন তিনি। তা না হলে সংসদীয় ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে। নিম্নকক্ষে পাস হওয়া আইন পর্যালোচনা বা অনুমোদনের জন্য উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে, কত দিন তারা সেটি নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন এবং কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’ (বেসিক স্ট্রাকচার) ধারণার অস্পষ্টতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অতীতে আদেশের মাধ্যমে সংবিধান স্পর্শ করা নিয়ে নিজের পর্যালোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে পরিবর্তন আনা যায় কি না। তিনি বলেন, সংবিধান চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগেও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের ভূমিকা ছিল, তবে সবক্ষেত্রে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করে রাজনৈতিক সমঝোতা। সমঝোতার দলিলে স্বাক্ষর থাকলে তা অঙ্গীকার হিসেবে গণ্য হয়, যা ভঙ্গ করলে প্রতিনিধিরা আইনসভায় রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মুখোমুখি হন।

রাষ্ট্রীয় মূল ভিত্তিগুলোর সুদৃঢ় অবস্থান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে সরকার বিচার বিভাগ, সংবাদমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনসহ মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতায় সম্পূর্ণ আশ্বস্ত। দেশের জনগণই চূড়ান্ত ক্ষমতার মালিক এবং তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমেই প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। এ কারণে বিচারকগণ যাতে পুরোপুরি স্বাধীন থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেন, সেই পরিবেশ সুনিশ্চিত করা হবে।

পরিশেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৃত্রিম বিভাজন না বাড়িয়ে ঐকমত্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন, যেসব বিষয়ে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, তা সংলাপের টেবিলেই শিথিল করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্র পরিচালনা সুষ্ঠু রাখতে বিরোধী দলকে লংমার্চ ছেড়ে সংবিধান সংশোধনের গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্র পরিচালনায় অসুবিধা হতে পারে।