Hi

০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিমান্ডে সাবেক দুই সেনাকর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষ

রাজধানীর পল্লবী থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক দুই সেনাকর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ (৪৭)। এর আগে রোববার গভীর রাতে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

তদন্তকারী সংস্থা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্র পক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ রিমান্ডে নেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

তদন্ত নথিতে পুলিশ উল্লেখ করেছে, আসামিরা পল্লবীতে অবস্থান করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা # ১’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন। এছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামক ফেসবুক পেজ এবং ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন তারা। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে Bangladesh Awami League Supporters Alpha # ১’ এবং BBM Transparency নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস উসকানিম।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুগত ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন এবং এর ১০১ সদস্যের কমিটি তৈরিতেও তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পুলিশ জানায়, আসামিদের সাথে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে। অবৈধ অর্থায়ন, সহিংস উসকানি ও সাইবার অপপ্রচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রিমান্ডে সাবেক দুই সেনাকর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষ

আপডেট : ০৮:০২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর পল্লবী থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক দুই সেনাকর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ (৪৭)। এর আগে রোববার গভীর রাতে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

তদন্তকারী সংস্থা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্র পক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ রিমান্ডে নেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

তদন্ত নথিতে পুলিশ উল্লেখ করেছে, আসামিরা পল্লবীতে অবস্থান করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা # ১’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন। এছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামক ফেসবুক পেজ এবং ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন তারা। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে Bangladesh Awami League Supporters Alpha # ১’ এবং BBM Transparency নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস উসকানিম।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুগত ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন এবং এর ১০১ সদস্যের কমিটি তৈরিতেও তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পুলিশ জানায়, আসামিদের সাথে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে। অবৈধ অর্থায়ন, সহিংস উসকানি ও সাইবার অপপ্রচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।