Hi

১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা: মামলা করবে প্রশাসন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার মধ্যরাতে প্রশাসনিক আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকেরা তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছেন। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগসহ অন্যান্য দাবিতে তারা এখনও অটল রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের না হলে তারা আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সাংবাদিকদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা ও সোমবার বেলা ১২টার মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা।

রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে চারজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দৈনিক আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান এবং সমকালের মাঈনুল ইসলাম রয়েছেন। তাদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে এবং পরে রাত দশটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হামলার খবর পেয়ে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম এবং সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অধ্যাপক মামুনুর রশীদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ক্যাম্পাসে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি জানান, সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সোমবার হল প্রশাসনের উদ্যোগে মামলা দায়ের করা হবে এবং অন্যান্য দাবিগুলো নিয়ম মেনে বিবেচনার আশ্বাস দেন। অন্য দাবি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বাস্তবায়ন করা হবে।’।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন অংশ নেন। এদের মধ্যে সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন। হামলার সময় ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্তদের বর্তমান ছাত্রত্ব থাকলে তা বাতিল করা, সাবেক শিক্ষার্থীদের সনদ প্রত্যাহার এবং বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে এই কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এ. বি. এম. ইজাজুল কবির রুয়েল ও মনজুরুল আলম। তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরেজমিন তদন্ত শেষে কেন্দ্রীয় সংসদে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

বিশ্ব বসতি দিবসে আগারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা: মামলা করবে প্রশাসন

আপডেট : ১০:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার মধ্যরাতে প্রশাসনিক আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকেরা তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছেন। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগসহ অন্যান্য দাবিতে তারা এখনও অটল রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের না হলে তারা আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সাংবাদিকদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা ও সোমবার বেলা ১২টার মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা।

রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে চারজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দৈনিক আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান এবং সমকালের মাঈনুল ইসলাম রয়েছেন। তাদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে এবং পরে রাত দশটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হামলার খবর পেয়ে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম এবং সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অধ্যাপক মামুনুর রশীদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ক্যাম্পাসে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি জানান, সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সোমবার হল প্রশাসনের উদ্যোগে মামলা দায়ের করা হবে এবং অন্যান্য দাবিগুলো নিয়ম মেনে বিবেচনার আশ্বাস দেন। অন্য দাবি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বাস্তবায়ন করা হবে।’।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন অংশ নেন। এদের মধ্যে সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন। হামলার সময় ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্তদের বর্তমান ছাত্রত্ব থাকলে তা বাতিল করা, সাবেক শিক্ষার্থীদের সনদ প্রত্যাহার এবং বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে এই কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এ. বি. এম. ইজাজুল কবির রুয়েল ও মনজুরুল আলম। তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরেজমিন তদন্ত শেষে কেন্দ্রীয় সংসদে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।