মৃত্যুর পরও তারকাদের সৃষ্টিকর্মের জনপ্রিয়তা ও মেধা-স্বত্বের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বজায় থাকে। গান, সিনেমা বা বইয়ের রয়্যালটি ও স্বত্ব বিক্রি থেকে অর্জিত সেই অর্থ জমা হয় তাঁদের উত্তরাধিকারীদের তহবিলে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ফোর্বসের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রয়াত তারকাদের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি আয় করেছেন মার্কিন সংগীত প্রযোজক কুইন্সি জোন্স। ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মেধা-স্বত্ব থেকে প্রাপ্ত আয়ের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি কপিরাইট লঙ্ঘন করেছে। তারকারা মারা গেলেও তাঁদের সৃষ্টিকর্মের আবেদন ফুরায় না। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কয়েক দশক পর সংগীতের বাইরেও এলভিসের বিপুল জনপ্রিয়তা আছে।
তালিকায় ১৫ কোটি ডলার আয় নিয়ে শীর্ষে থাকা কুইন্সি জোন্স ২০২৪ সালের শেষ দিকে ৯১ বছর বয়সে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গত মার্চে তাঁর উত্তরাধিকারীরা সংগীত ও বিনোদনজগতের অধিকাংশ সম্পদের স্বত্ব সংগীতস্বত্ব ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হারবারভিউ ইক্যুইটি পার্টনার্সের কাছে বিক্রি করে দেন। এর মধ্যে শিল্পী হিসেবে তাঁর নিজস্ব সংগীতের স্বত্ব এবং ‘সোল বোসা নোভা’র মতো বিশ্বখ্যাত সুরের প্রকাশনা স্বত্বও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ফোর্বসের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন, যার অর্জিত আয়ের পরিমাণ ১৪ কোটি ডলার। ৮ কোটি ডলার আয় করে তৃতীয় স্থানে আছেন শিশুতোষ সাহিত্যের খ্যাতনামা লেখক ড. সিউস। চতুর্থ স্থানে থাকা ‘রক অ্যান্ড রোল’ কিংবদন্তি এলভিস প্রিসলির আয় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ ছাড়া ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সংগীত তারকা ডলি পার্টন।
শীর্ষে থাকা কুইন্সি জোন্স ছিলেন বহু মাত্রার এক কালজয়ী প্রযোজক। মাইকেল জ্যাকসনের বিশ্বখ্যাত অ্যালবাম ‘থ্রিলার’ থেকে শুরু করে ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার ‘ফ্লাই মি টু দ্য মুন’–এর মতো অসংখ্য গানের সুর ও প্রযোজনা এসেছে তাঁর হাত ধরে। রে চার্লস, ডোনা সামার, মাইলস ডেভিস, কাউন্ট বেসি ও অ্যারেথা ফ্র্যাঙ্কলিনের সংগীতজীবনের বিকাশেও তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এ ছাড়া তিনি ভিব ম্যাগাজিনের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘দ্য ফ্রেশ প্রিন্স অব বেল-এয়ার’-এর নির্বাহী প্রযোজক ছিলেন। ১৯৮৫ সালের বিখ্যাত ‘উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড’ গানের সংগীত পরিচালনা করার পাশাপাশি স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘দ্য কালার পার্পল’ চলচ্চিত্রের সুরসংযোজনের জন্য অস্কারে দুটি মনোনয়ন পান জোন্স। কুইন্সি জোন্সের মতো বৈচিত্র্যময় ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী সংগীত প্রযোজক খুব কমই দেখা যায়।
এদিকে, ২০০১ সালে ফোর্বস প্রথমবার প্রয়াত তারকাদের তালিকা করার পর থেকেই শীর্ষ দশে অবস্থান বজায় রেখেছেন এলভিস প্রিসলি। ১৯৭৭ সালে প্রয়াত হওয়া এই সংগীত তারকা ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছিলেন, যে সময়ে তাঁর উত্তরাধিকারীদের মোট আয় ছিল ১২০ কোটি ডলার। ২০২৬ সালেও তিনি আয়ের জোরালো ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত গ্রেসল্যান্ডের প্রাসাদ দেখতে প্রতিবছর লাখ লাখ দর্শনার্থী আসেন। পাশাপাশি তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহারের পণ্য বিক্রি, গ্রেসল্যান্ডের আয় এবং বজ লুরম্যান পরিচালিত ‘ইপিক: এলভিস প্রিসলি ইন কনসার্ট’ প্রামাণ্যচিত্র বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার ব্যবসাই এনে দিয়েছে এই রাজস্ব। গ্রেসল্যান্ড ও বিভিন্ন পণ্যের রয়্যালটির পাশাপাশি ২০২৬ সালে চলচ্চিত্র থেকেও আয় হয়েছে এলভিসের। আগের বছর বাজ লুরম্যান পরিচালিত এলভিসের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ায় মৃত্যুর পর তাঁর আয় বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।
এলভিস প্রিসলির উত্তরাধিকারীরা গত ২৩ অক্টোবর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। লাস ভেগাসে তাঁর ডিজিটাল হলোগ্রাম শো আয়োজনের পরিকল্পনাও চলছে। ফোর্বস জানায়, ২০০৩ সালে ১০ কোটি ডলার আয়ের পর ২০২৬ সালেই এলভিসের মেধা-স্বত্ব থেকে সর্বোচ্চ আয় এলো। এর আগে ২০২৪ সালে প্রায় ৫ কোটি ডলার আয় নিয়ে তালিকায় চতুর্থ এবং ২০২৫ সালে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় নিয়ে সপ্তম স্থানে নেমে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর দেখা গেল, গত ২৫ বছরের তালিকায় শীর্ষ ১০ থেকে কখনোই বাদ পড়েননি ‘রক অ্যান্ড রোল’–এর এই সম্রাট।
রিপোর্টার নাম: 
























