Hi

০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজিরপুরের সন্ধ্যা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। গ্রামবাংলার আবহমান ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে তা তুলে ধরার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করে। লোকজ সংস্কৃতির জনপ্রিয় এ আয়োজন দেখতে নদীর দুই কূল, মোটর সেতু ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা প্রদান করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং বেসরকারি সংস্থা ‘আবাস’। দক্ষিণাঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে বরিশালের উজিরপুরে।

৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টায় শিকারপুর শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন সন্ধ্যা নদী থেকে প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। চারটি নৌকা নিয়ে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে মেজর এম এ জলিল সেতু এলাকায়। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাউন্ডের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকাগুলোকে নিয়ে চূড়ান্ত ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী প্রতিযোগী নির্ধারণ করা হয়। পরে বিজয়ী দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের পুলিশ সুপার এ. জেড. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক আসমা ফেরদৌসী ও ‘আবাস’-এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। ফলে পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা বলয়।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম আলাউদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সর্দার সিদ্দিকুর রহমান এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি আ. ফ. ম. সামসুদ্দোহা আজাদসহ অন্য কর্মীবৃন্দ।

নৌকা বাইচ দেখতে দুপুর হতেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় সন্ধ্যা নদীর দুই তীর। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মেজর এম এ জলিল সেতুর ওপর হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। সেতুর ওপর মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ধীরগতির হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক হয়। এ উপলক্ষে সেতুটি রঙিন সাজে সাজানো হয় এবং এর পশ্চিম প্রান্তে মূল মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছিল।

বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম সামলাতে পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। উজিরপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলামের নির্দেশনায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। নদীতে পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও দায়িত্ব পালন করেছে ১০টিরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী দল। পাশাপাশি উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম ও একাধিক অ্যাম্বুলেন্স জরুরি সেবার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ হয়। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত বছরের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যা নদীতে প্রথমবারের মতো বাইচ আয়োজন করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয় আসর বসল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চাকরি থেকে বরখাস্ত ডিবিপ্রধান হারুনসহ আট পুলিশ কর্মকর্তা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

উজিরপুরের সন্ধ্যা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

আপডেট : ০৫:২২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। গ্রামবাংলার আবহমান ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে তা তুলে ধরার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করে। লোকজ সংস্কৃতির জনপ্রিয় এ আয়োজন দেখতে নদীর দুই কূল, মোটর সেতু ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা প্রদান করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং বেসরকারি সংস্থা ‘আবাস’। দক্ষিণাঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে বরিশালের উজিরপুরে।

৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টায় শিকারপুর শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন সন্ধ্যা নদী থেকে প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। চারটি নৌকা নিয়ে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে মেজর এম এ জলিল সেতু এলাকায়। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাউন্ডের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকাগুলোকে নিয়ে চূড়ান্ত ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী প্রতিযোগী নির্ধারণ করা হয়। পরে বিজয়ী দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের পুলিশ সুপার এ. জেড. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক আসমা ফেরদৌসী ও ‘আবাস’-এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। ফলে পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা বলয়।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম আলাউদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সর্দার সিদ্দিকুর রহমান এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি আ. ফ. ম. সামসুদ্দোহা আজাদসহ অন্য কর্মীবৃন্দ।

নৌকা বাইচ দেখতে দুপুর হতেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় সন্ধ্যা নদীর দুই তীর। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মেজর এম এ জলিল সেতুর ওপর হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। সেতুর ওপর মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ধীরগতির হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক হয়। এ উপলক্ষে সেতুটি রঙিন সাজে সাজানো হয় এবং এর পশ্চিম প্রান্তে মূল মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছিল।

বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম সামলাতে পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। উজিরপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলামের নির্দেশনায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। নদীতে পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও দায়িত্ব পালন করেছে ১০টিরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী দল। পাশাপাশি উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম ও একাধিক অ্যাম্বুলেন্স জরুরি সেবার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ হয়। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত বছরের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যা নদীতে প্রথমবারের মতো বাইচ আয়োজন করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয় আসর বসল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।