Hi

০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন চর্চায় ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ জন দেখেছে

ফ্রান্সে সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলন পরবর্তীতে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। গত সপ্তাহে এই আন্দোলনের সমর্থনে রাজপথে নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ। সে সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা বহু প্ল্যাকার্ডে একটি বিশেষ স্লোগান নজর কাড়ে, যা হলো—‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের কাছে স্লোগানটির অস্বাভাবিক ভাষা তাদের আন্দোলন এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

আরবি ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে) এবং ফরাসি ‘সে লে তেনেব্র’ (এটি অন্ধকার)—এই দুই ভাষার মিশ্রণে বাক্যটি তৈরি হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এর আক্ষরিক অর্থ অস্পষ্ট মনে হলেও, আন্দোলনকারী তরুণদের কাছে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও কর্তৃপক্ষের নীতিকে উপহাস করার বড় প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি।

ঘটনার সূত্রপাত স্ন্যাপচ্যাটের একটি বার্তা থেকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে যুক্ত হতে চেয়ে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি বার্তা পাঠান। ফ্রান্সে তরুণদের ব্যবহৃত কথ্যরীতির অনুকরণে লেখা সেই বারর্তার শুরুতে বলা হয়েছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ এবং পরে লেখা হয় ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব’। সেই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।’।

সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি মামাদু বা আবদেল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি সম্বলিত ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল থেকে বারবার বার্তাটি পাঠান। বার্তার অদ্ভুত ভাষা দেখে হাসির খোরাক হিসেবে স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীরা এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেন। আন্দোলনকারীদের ধারণা, শিক্ষার্থীদের দলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো পুলিশ সদস্যরা তরুণদের ভাষা অনুকরণ করতে গিয়ে এই হাস্যকর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা। তার ভাষ্য, তরুণেরা এই বাক্যকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছেন।

স্লোগানটি এখন তরুণ ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ফরাসি পুলিশের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতীকী প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে। ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিরা দীর্ঘকাল ধরে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আসছেন। তাদের মতে, এসব বার্তার মধ্য দিয়ে তাদের প্রতি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা ও গৎবাঁধা মানসিকতাই ফুটে উঠেছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দিষ্টভাবে এই বাক্য ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, অবৈধ কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা প্রতিরোধে এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তদন্তকারীরা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রেক্ষাপটে তদন্তকারীরা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন, যাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মতে, সরকার তরুণদের বাস্তব পরিস্থিতি ও তাদের ভাষা অনুধাবনে ব্যর্থ হচ্ছে। ফ্রান্সের একটি শীর্ষ ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ মন্তব্য করেন, ‘কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না।’ তিনি আরও বলেন, এই বাক্যাংশটি বেছে নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে আন্দোলনে নজরদারির চেষ্টা তাদের চোখ এড়ায়নি এবং শত বাধা সত্ত্বেও তারা সংগঠিত হতে সক্ষম। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলনের পেছনের বাস্তবতা ও তরুণদের ভাষা—দুটিই কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে।

একই সুর প্রকাশ পায় বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারী সাদানি সাবাদির কথায়। তিনি জানান, স্ন্যাপচ্যাটের ওই বার্তাগুলোতে স্পষ্টত একধরনের পূর্বধারণা ফুটে উঠেছে—যেন নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর মানুষই শুধু বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের সাথে জড়িত।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন চর্চায় ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান

আপডেট : ১০:০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলন পরবর্তীতে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। গত সপ্তাহে এই আন্দোলনের সমর্থনে রাজপথে নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ। সে সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা বহু প্ল্যাকার্ডে একটি বিশেষ স্লোগান নজর কাড়ে, যা হলো—‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের কাছে স্লোগানটির অস্বাভাবিক ভাষা তাদের আন্দোলন এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

আরবি ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে) এবং ফরাসি ‘সে লে তেনেব্র’ (এটি অন্ধকার)—এই দুই ভাষার মিশ্রণে বাক্যটি তৈরি হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এর আক্ষরিক অর্থ অস্পষ্ট মনে হলেও, আন্দোলনকারী তরুণদের কাছে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও কর্তৃপক্ষের নীতিকে উপহাস করার বড় প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি।

ঘটনার সূত্রপাত স্ন্যাপচ্যাটের একটি বার্তা থেকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে যুক্ত হতে চেয়ে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি বার্তা পাঠান। ফ্রান্সে তরুণদের ব্যবহৃত কথ্যরীতির অনুকরণে লেখা সেই বারর্তার শুরুতে বলা হয়েছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ এবং পরে লেখা হয় ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব’। সেই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।’।

সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি মামাদু বা আবদেল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি সম্বলিত ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল থেকে বারবার বার্তাটি পাঠান। বার্তার অদ্ভুত ভাষা দেখে হাসির খোরাক হিসেবে স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীরা এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেন। আন্দোলনকারীদের ধারণা, শিক্ষার্থীদের দলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো পুলিশ সদস্যরা তরুণদের ভাষা অনুকরণ করতে গিয়ে এই হাস্যকর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা। তার ভাষ্য, তরুণেরা এই বাক্যকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছেন।

স্লোগানটি এখন তরুণ ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ফরাসি পুলিশের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতীকী প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে। ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিরা দীর্ঘকাল ধরে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আসছেন। তাদের মতে, এসব বার্তার মধ্য দিয়ে তাদের প্রতি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা ও গৎবাঁধা মানসিকতাই ফুটে উঠেছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দিষ্টভাবে এই বাক্য ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, অবৈধ কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা প্রতিরোধে এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তদন্তকারীরা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রেক্ষাপটে তদন্তকারীরা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন, যাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মতে, সরকার তরুণদের বাস্তব পরিস্থিতি ও তাদের ভাষা অনুধাবনে ব্যর্থ হচ্ছে। ফ্রান্সের একটি শীর্ষ ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ মন্তব্য করেন, ‘কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না।’ তিনি আরও বলেন, এই বাক্যাংশটি বেছে নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে আন্দোলনে নজরদারির চেষ্টা তাদের চোখ এড়ায়নি এবং শত বাধা সত্ত্বেও তারা সংগঠিত হতে সক্ষম। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলনের পেছনের বাস্তবতা ও তরুণদের ভাষা—দুটিই কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে।

একই সুর প্রকাশ পায় বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারী সাদানি সাবাদির কথায়। তিনি জানান, স্ন্যাপচ্যাটের ওই বার্তাগুলোতে স্পষ্টত একধরনের পূর্বধারণা ফুটে উঠেছে—যেন নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর মানুষই শুধু বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের সাথে জড়িত।