যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পরীক্ষাটি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন সারা দেশ থেকে আসা হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। শনিবার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে এ সিদ্ধান্ত জানানো হলে ক্ষোভে সড়কে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।
পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সাতমসজিদ রোড, বাংলা কলেজ ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আড়ং সিগন্যাল এলাকায় সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরেবাংলা নগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. লোকমান হোসেন। তিনি জানান, ধানমন্ডি থেকে আসাদগেটমুখী সড়কে পরীক্ষার্থীদের অবস্থানের ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
মাদারটেকের এ আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা ফরিদপুরের বাসিন্দা ঈমান ও মো. তামিমসহ অনেক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তারা কেন্দ্রে আসন গ্রহণ করার পরই পরীক্ষা হবে না বলে জানানো হয়। অনেক কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণের পরপরই পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা বাতিলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ পরীক্ষার্থীদের জানায়নি। কেন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না, তা জানতে চাইলে ঈমান মোল্লা বলেন, কেন্দ্র থেকে কোনো কারণ জানানো হয়নি। একই কেন্দ্রের আরেক পরীক্ষার্থী মো. তামিম জানান, তাদের কেন্দ্রেও একইভাবে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ৩০০টি পদের বিপরীতে লক্ষাধিক প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে হতাশ চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভের সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার ব্যাখ্যা ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষুব্ধরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হয়ে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন বিক্ষোভের সময় চাকরিপ্রার্থীদের ‘প্রশ্ন ফাঁস হলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
- প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
- দূর থেকে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, এই দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানিয়েছেন, পুলিশ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং তারা তাদের দাবির কথা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্দোলনকারীদের বাইরে কেউ যেনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয় খেয়াল রাখা হচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 





















