Hi

০৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত সাজিয়ার সংবর্ধনা

ভোর না হতেই মোরেলগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মা সুরাইয়া জাহানের সঙ্গে রওনা হয়েছিলেন সাজিয়া শাহারিয়ার ছোঁয়া। ইজিবাইক ও ভ্যান বদলে সোমবার সকাল সাড়ে আটটার আগেই তারা পৌঁছান বাগেরহাটের স্বাধীনতা উদ্যানে। সাজিয়া এ বছর মোরেলগঞ্জের সুরেন্দ্রনাথ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিদ্যালয়টির ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেবল সাজিয়াই এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। বর্তমানে সে খুলনার সরকারি পাইওনিয়ার মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছে এবং পড়াশোনার প্রয়োজনে খুলনায় মেসে অবস্থান করছে। মেয়ের সাফল্য উদ্‌যাপন ও তাকে উৎসাহ দিতেই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছুটে এসেছেন তাঁর মা। প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে বেরিয়েছেন মা। সাজিয়াদের বাড়ি মোরেলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের হেড়মা বাজার এলাকায়। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মেয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠানে আসার কারণ জানতে চাইলে মা সুরাইয়া জাহান বলেন, ‘আমাদের এলাকাটা বেশ প্রান্তিক। সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে এসেছি, ওকে উৎসাহ দিতে। সংবর্ধনায় আসতে পেরে উচ্ছ্বসিত সাজিয়া।

সাজিয়া বড় হয়ে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে সে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খবরের কাগজ পড়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র কোর্সে যুক্ত হয়েছে। বাগেরহাটের স্বাধীনতা উদ্যানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাজিয়ার মতো অন্য কৃতী শিক্ষার্থীরাও আনন্দ প্রকাশ করেছে। সেখানে স্কুলজীবনের সহপাঠীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরতির পর দেখা হওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। ফকিরহাটের শিরিন হক পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মৌলি বিশ্বাস, জয়া আক্তার, আফিয়া ফারজানা, আনিকা তাবাসসুম পিয়া, আফিয়া জান্নাত ও ঈশিতার সঙ্গে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জিনিয়া আক্তার। ওদের জন্য এমন আয়োজন সত্যিই খুব দরকার।

‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। আয়োজনে ও ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পাওয়ার্ড বাই হিসেবে রয়েছে বিকাশ। এছাড়াও সহযোগিতায় আছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা। একদিন আগে গ্রামের বাড়ি ফিরে মাকে নিয়ে আজ বাগেরহাটে এসেছে শিখো– জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

বাগেরহাট পর্বে সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাগেরহাট বন্ধুসভার বন্ধু শহিদুল ইসলাম ইমনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট প্রতিনিধি সরদার ইনজামামুল হক। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক চৌধুরী আবদুর রব তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ১৯৭১, ১৯৯১ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক পটভূমি তরুণদের হাতেই রচিত হয়েছে। তবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্বও এই প্রজন্মের ওপরই বর্তায়। এ জন্য এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করেছে।

অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নারী ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম ‘ভ্রমণকন্যা’র সহপ্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক সাকিয়া হক শিক্ষার্থীদের বলেন, জিপিএ-৫ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে প্রকৃত অর্জন নির্ভর করে মানুষের কর্ম ও লক্ষ্য অর্জনের ওপর। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থবিদ্যাকে ‘না’ বলার শপথ পাঠ করান খুলনার নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তম মণ্ডল। তিনি শিক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, জিপিএ-৫ এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো একজন মানুষ হিসেবে নিজ অবস্থানে দায়িত্বশীল থাকা।

জনপ্রিয়

কূটনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক করার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত সাজিয়ার সংবর্ধনা

আপডেট : ০৭:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ভোর না হতেই মোরেলগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মা সুরাইয়া জাহানের সঙ্গে রওনা হয়েছিলেন সাজিয়া শাহারিয়ার ছোঁয়া। ইজিবাইক ও ভ্যান বদলে সোমবার সকাল সাড়ে আটটার আগেই তারা পৌঁছান বাগেরহাটের স্বাধীনতা উদ্যানে। সাজিয়া এ বছর মোরেলগঞ্জের সুরেন্দ্রনাথ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিদ্যালয়টির ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেবল সাজিয়াই এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। বর্তমানে সে খুলনার সরকারি পাইওনিয়ার মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছে এবং পড়াশোনার প্রয়োজনে খুলনায় মেসে অবস্থান করছে। মেয়ের সাফল্য উদ্‌যাপন ও তাকে উৎসাহ দিতেই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছুটে এসেছেন তাঁর মা। প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে বেরিয়েছেন মা। সাজিয়াদের বাড়ি মোরেলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের হেড়মা বাজার এলাকায়। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মেয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠানে আসার কারণ জানতে চাইলে মা সুরাইয়া জাহান বলেন, ‘আমাদের এলাকাটা বেশ প্রান্তিক। সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে এসেছি, ওকে উৎসাহ দিতে। সংবর্ধনায় আসতে পেরে উচ্ছ্বসিত সাজিয়া।

সাজিয়া বড় হয়ে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে সে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খবরের কাগজ পড়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র কোর্সে যুক্ত হয়েছে। বাগেরহাটের স্বাধীনতা উদ্যানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাজিয়ার মতো অন্য কৃতী শিক্ষার্থীরাও আনন্দ প্রকাশ করেছে। সেখানে স্কুলজীবনের সহপাঠীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরতির পর দেখা হওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। ফকিরহাটের শিরিন হক পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মৌলি বিশ্বাস, জয়া আক্তার, আফিয়া ফারজানা, আনিকা তাবাসসুম পিয়া, আফিয়া জান্নাত ও ঈশিতার সঙ্গে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জিনিয়া আক্তার। ওদের জন্য এমন আয়োজন সত্যিই খুব দরকার।

‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। আয়োজনে ও ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পাওয়ার্ড বাই হিসেবে রয়েছে বিকাশ। এছাড়াও সহযোগিতায় আছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা। একদিন আগে গ্রামের বাড়ি ফিরে মাকে নিয়ে আজ বাগেরহাটে এসেছে শিখো– জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

বাগেরহাট পর্বে সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাগেরহাট বন্ধুসভার বন্ধু শহিদুল ইসলাম ইমনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট প্রতিনিধি সরদার ইনজামামুল হক। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক চৌধুরী আবদুর রব তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ১৯৭১, ১৯৯১ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক পটভূমি তরুণদের হাতেই রচিত হয়েছে। তবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্বও এই প্রজন্মের ওপরই বর্তায়। এ জন্য এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করেছে।

অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নারী ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম ‘ভ্রমণকন্যা’র সহপ্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক সাকিয়া হক শিক্ষার্থীদের বলেন, জিপিএ-৫ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে প্রকৃত অর্জন নির্ভর করে মানুষের কর্ম ও লক্ষ্য অর্জনের ওপর। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থবিদ্যাকে ‘না’ বলার শপথ পাঠ করান খুলনার নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তম মণ্ডল। তিনি শিক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, জিপিএ-৫ এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো একজন মানুষ হিসেবে নিজ অবস্থানে দায়িত্বশীল থাকা।