ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কৌঁসুলিরা। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার কারাগারে আটক মার্কিন নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা নিয়ে এই নতুন অভিযোগগুলো তোলা হচ্ছে। জানা গেছে, মাদুরোর শাসনামলে সেখানে অন্তত ১২ জনের বেশি মার্কিন নাগরিককে অন্যায়ভাবে আটক ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে আরও কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হতে পারে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি রাতে এক নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে কারাকাসে মাদুরো ও ফ্লোরেসকে তাঁদের বাসভবন থেকে আটক করে মার্কিন বিশেষ বাহিনী। এরপর অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচারে মুখোমুখি করার জন্য তাঁদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। এই দম্পতি অবশ্য শুরু থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ম্যানহাটানের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় ও মাদুরোর আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোলাক জানিয়েছেন, নতুন কোনো অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এদিকে মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে মূল বিচারকাজ আগামী বছরের অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুন মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম সংরক্ষণের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদে মাদুরোসহ আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন কৌঁসুলিদের ভাষ্যমতে, মাদুরো, তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং সহযোগীরা মিলে একটি কোকেন পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছিলেন। কৌঁসুলিদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওপর জনগণ আস্থা রেখেছিল।
কৌঁসুলিদের দাবি, অভিযুক্তরা নিজ নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনগত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে টন টন কোকেন পাচার করেছেন। যদিও মাদুরো এসব অভিযোগকে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তিনি তাঁর দেশের প্রেসিডেন্ট এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো যোদ্ধা। কারাবন্দী মাদুরো বলেছেন, আমরা ভালো আছি, আমরা যোদ্ধা।
আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে মাদুরোর আইনজীবীরা এই মামলা খারিজের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। তাঁদের প্রধান যুক্তি হলো, নিকোলা মাদুরো একটি সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় তিনি কূটনৈতিক দায়মুক্তি পাওয়ার অধিকার রাখেন। পাশাপাশি, মাদুরোকে জোর করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ বেআইনি বলেও তাঁরা দাবি করছেন। তবে বিচারক এখনো এই আবেদনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
অন্যদিকে, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাবকেও গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে সিলিয়া ফ্লোরেসের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা ঘিরে আইনি লড়াইয়ের কৌশল ঠিক করছেন তাঁদের আইনজীবীরা।
রিপোর্টার নাম: 























