Hi

০৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চৌদ্দগ্রামে গ্রাহকের ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে লঘুদণ্ড

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক সরওয়ার আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ, স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং অনিয়মসহ ১৯টি অভিযোগের মধ্যে ১৭টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৪ টাকা আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে আসলেও অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে মাত্র দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। সরওয়ার আলম তালুকদারের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বারৈয়া গ্রামে। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১ জুলাই ও ২০২৫ সালের ১ জুলাই প্রাপ্য দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৯ জুন পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সরওয়ার আলম তালুকদার বিভিন্ন আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ, ঋণের জামানত হিসেবে রাখা চেকে জাল স্বাক্ষর, ভুয়া ঋণ বিতরণ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন এবং স্বজনদের নামে ঋণ দিয়ে নীতিমালার লঙ্ঘন ছিল তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ। একই সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তি নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। রহিমা বেগম জানান, ২০২১ সালে অভিযোগ করলেও তদন্তের ফল সম্পর্কে তাঁরা জানতে পারেননি।

২০২১ সালের জুনে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সরওয়ার আলম তালুকদার ছাড়াও শাখার আরও দুই কর্মকর্তা আবদুল জলিল ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে ওই পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আবদুর রহিম শিকদারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ব্যাংকের চাকরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা ও প্রতারণার দায়ে মামলা করা হলেও ক্ষমাপ্রার্থনা ও বয়স বিবেচনায় তাঁকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০০৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ, আত্মসাৎ, তহবিল তসরুপ ও প্রতারণামূলক অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছিল।

অভিযোগনামায় দেখা যায়, ২০২২ সালের ৩ মার্চ দায়ের করা ১৯টি অভিযোগের মধ্যে ১৭টিই সত্য প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে অধীনস্থ কর্মকর্তার চেক ব্যবহার করে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৬ টাকা উত্তোলন, ভুয়া স্বাক্ষরে গ্রাহকের নামে ২ লাখ টাকা ঋণ ও ৯ লাখ ৮ হাজার ৩০০ টাকা আমানত আত্মসাতের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া স্ত্রী রুনা লায়লার নামে অতিরিক্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া এবং ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়েও হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের মতো ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। এ ছাড়া আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৯ লাখ ৮ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়। গ্রাহকের নামে ঋণ বিতরণ দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, এসডিপিএস হিসাবের রসিদ পরিবর্তন করে ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং এসডিপিএসের স্থিতির বিপরীতে ঋণ পরিশোধের ২ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও ছিল। এ ছাড়া সরওয়ার আলম তালুকদারের স্ত্রী রুনা লায়লার নামে ঋণ সার্কুলার লঙ্ঘন করে ৬৩ হাজার ৬৩০ টাকা অতিরিক্ত ঋণ প্রদান, প্রধান কার্যালয় থেকে নামঞ্জুর করা এক উদ্যোক্তাকে নিয়ম ভেঙে ১ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া এবং নগদ টাকা জমা ছাড়াই জমা-উত্তোলন দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের। এসডিপিএসের মাসিক কিস্তি আদায় করে ৪ হাজার টাকা এবং হিসাবধারীদের কাছ থেকে মাসিক জমার ৭৯ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহক পারভীন আক্তারের ৫ হাজার ১৫৬ টাকা, পারভীন বেগমের ৩৮ হাজার ৪০৯ টাকা এবং আবুল খায়েরের ৩২ হাজার ৫১৭ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এদিকে, এই শাস্তির রেশ না কাটতেই চলতি বছরের ২৫ আগস্ট থেকে সরওয়ার আলমের বিরুদ্ধে নতুন করে আমানত আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে পারভীন আক্তার, পারভীন বেগম ও আবুল খায়ের রয়েছেন। সোহেল আহমেদ নামে এক গ্রাহকের দাবি, ঋণ নেওয়ার সময় জামানত হিসেবে দেওয়া চেকে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও অতিরিক্ত ঋণের দায় এখনো তাঁকেই বহন করতে হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কথা বলায় তিনি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন। এ ঘটনায় সে সময় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলেও দাবি করেন। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে পরে বক্তব্য দেব।’।

রহিমা বেগম নামের আরেক গ্রাহক জানান, তিনি ও তাঁর স্বামী আবদুর রহমান আলাদাভাবে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে আরও ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পরও ওই অতিরিক্ত ঋণের বোঝা তাঁদের ওপরই রয়ে গেছে। এছাড়া প্রবাসী শফিউল আজম এসডিপিএসের আমানত তুলতে গিয়ে দেখেন তাঁর হিসাব থেকে ২৬ হাজার ৫৩৬ টাকা গায়েব করা হয়েছে। আবুল খায়ের জানান, ২০২০ সালে এসডিপিএসের বিপরীতে নেওয়া ঋণের ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও চলতি বছরের আগস্টে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে ওই ঋণ এখনো বকেয়া রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যাংকের কাছে বারবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েও তাঁরা কোনো সমাধান পাননি। সরওয়ার আলমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যাংকের গ্রাহক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশ্ন, প্রমাণিত আত্মসাতের ঘটনায় কেন লঘুদণ্ড দেওয়া হলো এবং কেনই বা তাঁরা তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

চৌদ্দগ্রাম শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন জানান, নতুন করে চারজন গ্রাহক সরওয়ার আলমের বিরুদ্ধে এসডিপিএসের টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এসব নতুন অভিযোগের সত্যতা ও তদন্তের অগ্রগতি এখনো নিশ্চিত নয়।

ব্যাংকের কুমিল্লা অঞ্চলের আবাসিক ব্যবস্থাপক (আরএমও) জামাল উদ্দিন জানান, তাঁর কাছে সরওয়ারের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ এখনো পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।

অন্যদিকে, সরওয়ার আলম তালুকদার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আগের শাস্তির বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

এখন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তাঁদের আমানত ফেরত, অবৈধ ঋণের দায়মুক্তি এবং নতুন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন। পুরো বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত, সমীকরণে আরব দল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চৌদ্দগ্রামে গ্রাহকের ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে লঘুদণ্ড

আপডেট : ০৭:৩২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক সরওয়ার আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ, স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং অনিয়মসহ ১৯টি অভিযোগের মধ্যে ১৭টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৪ টাকা আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে আসলেও অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে মাত্র দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। সরওয়ার আলম তালুকদারের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বারৈয়া গ্রামে। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১ জুলাই ও ২০২৫ সালের ১ জুলাই প্রাপ্য দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৯ জুন পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সরওয়ার আলম তালুকদার বিভিন্ন আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ, ঋণের জামানত হিসেবে রাখা চেকে জাল স্বাক্ষর, ভুয়া ঋণ বিতরণ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন এবং স্বজনদের নামে ঋণ দিয়ে নীতিমালার লঙ্ঘন ছিল তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ। একই সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তি নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। রহিমা বেগম জানান, ২০২১ সালে অভিযোগ করলেও তদন্তের ফল সম্পর্কে তাঁরা জানতে পারেননি।

২০২১ সালের জুনে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সরওয়ার আলম তালুকদার ছাড়াও শাখার আরও দুই কর্মকর্তা আবদুল জলিল ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে ওই পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আবদুর রহিম শিকদারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ব্যাংকের চাকরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা ও প্রতারণার দায়ে মামলা করা হলেও ক্ষমাপ্রার্থনা ও বয়স বিবেচনায় তাঁকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০০৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ, আত্মসাৎ, তহবিল তসরুপ ও প্রতারণামূলক অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছিল।

অভিযোগনামায় দেখা যায়, ২০২২ সালের ৩ মার্চ দায়ের করা ১৯টি অভিযোগের মধ্যে ১৭টিই সত্য প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে অধীনস্থ কর্মকর্তার চেক ব্যবহার করে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৬ টাকা উত্তোলন, ভুয়া স্বাক্ষরে গ্রাহকের নামে ২ লাখ টাকা ঋণ ও ৯ লাখ ৮ হাজার ৩০০ টাকা আমানত আত্মসাতের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া স্ত্রী রুনা লায়লার নামে অতিরিক্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া এবং ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়েও হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের মতো ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। এ ছাড়া আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৯ লাখ ৮ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়। গ্রাহকের নামে ঋণ বিতরণ দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, এসডিপিএস হিসাবের রসিদ পরিবর্তন করে ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং এসডিপিএসের স্থিতির বিপরীতে ঋণ পরিশোধের ২ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও ছিল। এ ছাড়া সরওয়ার আলম তালুকদারের স্ত্রী রুনা লায়লার নামে ঋণ সার্কুলার লঙ্ঘন করে ৬৩ হাজার ৬৩০ টাকা অতিরিক্ত ঋণ প্রদান, প্রধান কার্যালয় থেকে নামঞ্জুর করা এক উদ্যোক্তাকে নিয়ম ভেঙে ১ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া এবং নগদ টাকা জমা ছাড়াই জমা-উত্তোলন দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের। এসডিপিএসের মাসিক কিস্তি আদায় করে ৪ হাজার টাকা এবং হিসাবধারীদের কাছ থেকে মাসিক জমার ৭৯ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহক পারভীন আক্তারের ৫ হাজার ১৫৬ টাকা, পারভীন বেগমের ৩৮ হাজার ৪০৯ টাকা এবং আবুল খায়েরের ৩২ হাজার ৫১৭ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এদিকে, এই শাস্তির রেশ না কাটতেই চলতি বছরের ২৫ আগস্ট থেকে সরওয়ার আলমের বিরুদ্ধে নতুন করে আমানত আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে পারভীন আক্তার, পারভীন বেগম ও আবুল খায়ের রয়েছেন। সোহেল আহমেদ নামে এক গ্রাহকের দাবি, ঋণ নেওয়ার সময় জামানত হিসেবে দেওয়া চেকে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও অতিরিক্ত ঋণের দায় এখনো তাঁকেই বহন করতে হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কথা বলায় তিনি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন। এ ঘটনায় সে সময় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলেও দাবি করেন। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে পরে বক্তব্য দেব।’।

রহিমা বেগম নামের আরেক গ্রাহক জানান, তিনি ও তাঁর স্বামী আবদুর রহমান আলাদাভাবে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে আরও ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পরও ওই অতিরিক্ত ঋণের বোঝা তাঁদের ওপরই রয়ে গেছে। এছাড়া প্রবাসী শফিউল আজম এসডিপিএসের আমানত তুলতে গিয়ে দেখেন তাঁর হিসাব থেকে ২৬ হাজার ৫৩৬ টাকা গায়েব করা হয়েছে। আবুল খায়ের জানান, ২০২০ সালে এসডিপিএসের বিপরীতে নেওয়া ঋণের ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও চলতি বছরের আগস্টে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে ওই ঋণ এখনো বকেয়া রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যাংকের কাছে বারবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েও তাঁরা কোনো সমাধান পাননি। সরওয়ার আলমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যাংকের গ্রাহক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশ্ন, প্রমাণিত আত্মসাতের ঘটনায় কেন লঘুদণ্ড দেওয়া হলো এবং কেনই বা তাঁরা তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

চৌদ্দগ্রাম শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন জানান, নতুন করে চারজন গ্রাহক সরওয়ার আলমের বিরুদ্ধে এসডিপিএসের টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এসব নতুন অভিযোগের সত্যতা ও তদন্তের অগ্রগতি এখনো নিশ্চিত নয়।

ব্যাংকের কুমিল্লা অঞ্চলের আবাসিক ব্যবস্থাপক (আরএমও) জামাল উদ্দিন জানান, তাঁর কাছে সরওয়ারের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ এখনো পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।

অন্যদিকে, সরওয়ার আলম তালুকদার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আগের শাস্তির বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

এখন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তাঁদের আমানত ফেরত, অবৈধ ঋণের দায়মুক্তি এবং নতুন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন। পুরো বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।