Hi

১০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত, সমীকরণে আরব দল

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা এগোনার সঙ্গে সঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। অন্যদিকে, বিরোধীরা আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিকল্প জোট গঠনের উদ্যোগ নিলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে আরব জোটের সমর্থন নেওয়া নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতপার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়। কিন্তু বিরোধী নেতারা তার নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে অনিচ্ছুক থাকায় ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও সীমিত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির আংশিক ফল অনুযায়ী, প্রায় ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট ইয়াশার ৪৯টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। এ ছাড়া আরব দলগুলোর যৌথ জোট পেয়েছে ১৭টি আসন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে (পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসন প্রয়োজন হলেও কোনো পক্ষই এককভাবে সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৯। আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭।

নির্বাচনি ফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান ধরে রাখলেও আইজেনকটের ইয়াশার দল বিরোধী শিবিরের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি নাফতালি বেনেটের দল ও ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। তবে চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত এই আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমতাবস্থায় নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের অংশীদারত্ব মেনে নিয়ে আরব দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান। তার মতে, বিরোধীদের সামনে নতুন সরকার গড়ার বড় সুযোগ এসেছে।

একই অবস্থান ব্যক্ত করেছে আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট। দলটির নেতা ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তারা পথ তৈরি করতে প্রস্তুত। আর এক আইনপ্রণেতা আহমাদ তিবি বিরোধীদের সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, বিরোধী শিবির উদ্যোগ নিলে আরব দলগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে রাজি আছে।

তবে বিরোধী শিবিরের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটের আগেই বিরোধী জোটের একাধিক নেতা আরবদের সহায়তায় সরকার গড়ার বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। ফলে গাণিতিক হিসাব মিললেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। অন্যদিকে, কোনো পক্ষই সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বা নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো ঐকমত্যে না পৌঁছাতে পারলে ইসরায়েলকে আবারও নতুন নির্বাচনের মুখে পড়তে হতে পারে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার ডিপিপি দ্রুত তৈরির কথা জানালেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত, সমীকরণে আরব দল

আপডেট : ০৯:২৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা এগোনার সঙ্গে সঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। অন্যদিকে, বিরোধীরা আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিকল্প জোট গঠনের উদ্যোগ নিলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে আরব জোটের সমর্থন নেওয়া নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতপার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়। কিন্তু বিরোধী নেতারা তার নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে অনিচ্ছুক থাকায় ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও সীমিত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির আংশিক ফল অনুযায়ী, প্রায় ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট ইয়াশার ৪৯টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। এ ছাড়া আরব দলগুলোর যৌথ জোট পেয়েছে ১৭টি আসন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে (পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসন প্রয়োজন হলেও কোনো পক্ষই এককভাবে সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৯। আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭।

নির্বাচনি ফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান ধরে রাখলেও আইজেনকটের ইয়াশার দল বিরোধী শিবিরের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি নাফতালি বেনেটের দল ও ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। তবে চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত এই আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমতাবস্থায় নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের অংশীদারত্ব মেনে নিয়ে আরব দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান। তার মতে, বিরোধীদের সামনে নতুন সরকার গড়ার বড় সুযোগ এসেছে।

একই অবস্থান ব্যক্ত করেছে আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট। দলটির নেতা ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তারা পথ তৈরি করতে প্রস্তুত। আর এক আইনপ্রণেতা আহমাদ তিবি বিরোধীদের সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, বিরোধী শিবির উদ্যোগ নিলে আরব দলগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে রাজি আছে।

তবে বিরোধী শিবিরের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটের আগেই বিরোধী জোটের একাধিক নেতা আরবদের সহায়তায় সরকার গড়ার বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। ফলে গাণিতিক হিসাব মিললেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। অন্যদিকে, কোনো পক্ষই সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বা নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো ঐকমত্যে না পৌঁছাতে পারলে ইসরায়েলকে আবারও নতুন নির্বাচনের মুখে পড়তে হতে পারে।