Hi

০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতে ডিজিটাল হাজিরা চালুর পরিকল্পনা সরকারের: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০২:০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ জন দেখেছে

আদালতে আসামিদের সশরীরে হাজিরার পরিবর্তে ডিজিটাল হাজিরা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। ‘স্পিডবোটে আটকে না থাকলে চলে যেত বহুদূর’—প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার। মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি, কোনো কোনো জায়গায় দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা কোর্ট করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন কারাগার থেকে অসংখ্য আসামিকে আদালতে হাজির করতে হয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন কারাগার থেকে যে পরিমাণ আসামিকে কোর্টে হাজির করতে হয় ধার্য তারিখে, এই হাজির করাটা একদিকে যেমন মোবিলাইজেশনের ব্যাপার; আমার গাড়ি লাগছে, সিকিউরিটি দিতে হচ্ছে এত ঝামেলার মধ্যে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটা সেক্টরকে আদালতের এখানেই ব্যস্ত থাকতে।

এই প্রক্রিয়ায় বিশাল আকারের পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়, যা একটি সময়সাপেক্ষ ও জটিল কাজ। ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু হলে এ ধরনের ভোগান্তি দূর হবে এবং বিচারিক কার্যক্রমের মোবিলাইজেশন সহজতর হবে। এটি বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। যদি এ রকম কেউ আয়েশি জুডিশিয়াল অফিসার থাকেন, আপনার আয়েশের ব্যবস্থা আমরা করতে পারব, আশা করি এতটুকু অ্যাকোমোডেশন আমরা দিতে পারব।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ডিজিটাল হাজিরা চালু করা হয়েছে। সেখানে কারাগার থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আদালত ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন।

বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে ৪৬ লাখেরও বেশি মামলা পেন্ডিং রয়েছে। মাত্র দুই হাজার ৩০০ জন বিচারকের পক্ষে এই বিশাল মামলার জট নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত কঠিন এবং এটি তাদের ওপর অমানবিক চাপ তৈরি করছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় মহানগরগুলোতে এই চাপ সবচেয়ে বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর। কখনো কখনো তাদের ওপর অমানবিক (ইনহিউম্যান) চাপ পড়ে যায়।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিচারক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার বাড়তি চাপের জেলাগুলোতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সক্ষম এমন কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যারা কেবল চাকরি করার জন্য নয়, বরং বিচারিক সক্রিয়তা দেখাতে পারবেন, তাদের বাছাই করে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

আইনজীবীদের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্টের বরাতে মন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অনেক সময় আদালতের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কম সময় বিচারিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ১১টায় এসে ১টা-দেড়টার মধ্যে আদালত শেষ করে দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের আয়েশি মনোভাব পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন না, তাদের অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হতে পারে। গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন চেয়ে সরকারের চিঠি। আমাকে একটু আগেই আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হলো, কোনো কোনো আদালতে…আসছেন ১১টায়, ২টা, ১টা-দেড়টার মধ্যে কাজ শেষ, চলে যাচ্ছেন। ৫ বছরে ফল আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ, দ্বিগুণ বেড়েছে শুল্ক আয়।

নয়’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী |: বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আদালতে ডিজিটাল হাজিরা চালুর পরিকল্পনা সরকারের: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

আপডেট : ০২:০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আদালতে আসামিদের সশরীরে হাজিরার পরিবর্তে ডিজিটাল হাজিরা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। ‘স্পিডবোটে আটকে না থাকলে চলে যেত বহুদূর’—প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার। মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি, কোনো কোনো জায়গায় দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা কোর্ট করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন কারাগার থেকে অসংখ্য আসামিকে আদালতে হাজির করতে হয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন কারাগার থেকে যে পরিমাণ আসামিকে কোর্টে হাজির করতে হয় ধার্য তারিখে, এই হাজির করাটা একদিকে যেমন মোবিলাইজেশনের ব্যাপার; আমার গাড়ি লাগছে, সিকিউরিটি দিতে হচ্ছে এত ঝামেলার মধ্যে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটা সেক্টরকে আদালতের এখানেই ব্যস্ত থাকতে।

এই প্রক্রিয়ায় বিশাল আকারের পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়, যা একটি সময়সাপেক্ষ ও জটিল কাজ। ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু হলে এ ধরনের ভোগান্তি দূর হবে এবং বিচারিক কার্যক্রমের মোবিলাইজেশন সহজতর হবে। এটি বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। যদি এ রকম কেউ আয়েশি জুডিশিয়াল অফিসার থাকেন, আপনার আয়েশের ব্যবস্থা আমরা করতে পারব, আশা করি এতটুকু অ্যাকোমোডেশন আমরা দিতে পারব।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ডিজিটাল হাজিরা চালু করা হয়েছে। সেখানে কারাগার থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আদালত ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন।

বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে ৪৬ লাখেরও বেশি মামলা পেন্ডিং রয়েছে। মাত্র দুই হাজার ৩০০ জন বিচারকের পক্ষে এই বিশাল মামলার জট নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত কঠিন এবং এটি তাদের ওপর অমানবিক চাপ তৈরি করছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় মহানগরগুলোতে এই চাপ সবচেয়ে বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর। কখনো কখনো তাদের ওপর অমানবিক (ইনহিউম্যান) চাপ পড়ে যায়।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিচারক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার বাড়তি চাপের জেলাগুলোতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সক্ষম এমন কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যারা কেবল চাকরি করার জন্য নয়, বরং বিচারিক সক্রিয়তা দেখাতে পারবেন, তাদের বাছাই করে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

আইনজীবীদের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্টের বরাতে মন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অনেক সময় আদালতের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কম সময় বিচারিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ১১টায় এসে ১টা-দেড়টার মধ্যে আদালত শেষ করে দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের আয়েশি মনোভাব পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন না, তাদের অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হতে পারে। গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন চেয়ে সরকারের চিঠি। আমাকে একটু আগেই আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হলো, কোনো কোনো আদালতে…আসছেন ১১টায়, ২টা, ১টা-দেড়টার মধ্যে কাজ শেষ, চলে যাচ্ছেন। ৫ বছরে ফল আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ, দ্বিগুণ বেড়েছে শুল্ক আয়।