পাবনা থেকে সরাসরি ঢাকায় যাতায়াতের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস আগামী ২০ নভেম্বর থেকে চালু হতে যাচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শনের সময় এই তথ্য নিশ্চিত করেন। রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশন হয়ে চলাচল করবে, যা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম জানান, পাবনা থেকে ঢাকায় সরাসরি যাতায়াতের জন্য নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সচিব জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে ভারত থেকে ইতিমধ্যে ১৮টি কোচ সংগ্রহ করেছে, যা বর্তমানে সৈয়দপুর ক্যারেজ ওয়ার্কশপে রয়েছে।
প্রয়োজনীয় কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করার পর ভারতীয় প্রকৌশলীরা চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করবেন। সব মিলিয়ে ১২টি কোচ নিয়ে নভেম্বরের শেষার্ধে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করবে। ঈশ্বরদী জংশনে ইঞ্জিন পরিবর্তনের সুবিধা থাকায় এবং মাঝগ্রাম দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে পরিচালনাগত ঝুঁকি এড়াতে এই রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও এতে যাত্রায় কিছুটা সময় বাড়তে পারে, তবে নিরাপত্তার খাতিরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন দুটি ট্রেনের নাম ‘পাবনা প্রভাতী এক্সপ্রেস (৮০৮)’ ও ‘পাবনা গোধূলি এক্সপ্রেস (৮০৭)’। পাবনা থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে এবং বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে রাত ৯টা ২০ মিনিটে পাবনায় পৌঁছাবে। ১০ নভেম্বর থেকে এই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের। নতুন এই সময়সূচি বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানের ঢালারচর এক্সপ্রেসসহ অন্যান্য ট্রেনের সময়সূচিতেও কিছুটা রদবদল আনা হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। রেলওয়ের পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ট্রেনের সময়সূচি বাস্তবায়নে ৭৭৯ নম্বর ঢালারচর এক্সপ্রেসের ছাড়ার সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে এগিয়ে সকাল ৬টা ১০ মিনিট করতে হবে। এ ছাড়া ৭৬৩ নম্বর ট্রেনের সময়সূচিও আংশিক পরিবর্তন করতে হবে।
এই ট্রেনটি পাবনা, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, লালপুর, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম ও ভেড়ামারাসহ আশেপাশের এলাকার যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করবে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ সালে রেললাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও এতোদিন সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ অধরা ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে রাজধানীতে যাতায়াতকারী এ অঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও অজ্ঞাত কারণে তা থমকে যায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই প্রক্রিয়ায় পাবনার সন্তান রেলপথ সচিব ফাহিমুল ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই উদ্যোগ থেমে যায়। যমুনা সেতু হয়ে চলাচলকারী এ ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং প।
ট্রেনটি টেবুনিয়া, দাশুড়িয়া, ঈশ্বরদী, মাঝগ্রাম, চাটমোহর, বড়ালব্রিজ, উল্লাপাড়া, শহীদ মনসুর আলী, টাঙ্গাইল, জয়দেবপুর এবং ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে থামবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। ২৫ অক্টোবর রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় থেকে অনুমোদনের জন্য এই প্রস্তাবটি মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পত্রে নতুন ট্রেনের নাম, সময়সূচি ও যাত্রাবিরতির সংশোধিত প্রস্তাব মহাপরিচালকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে ঈশ্বরদী গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হওয়ায় এবং সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান থাকায় রেল যোগাযোগের গুরুত্ব অনেক। আগের সরকারের আমলে রাজশাহী থেকে ঢালারচর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারিত হলেও পাবনাবাসীর ঢাকায় সরাসরি যাতায়াতের স্বপ্ন অধরাই ছিল। এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হতে চলায় ঈশ্বরদীসহ পুরো পাবনা অঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বইছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইপিজেড, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, ডাল গবেষণা কেন্দ্র ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঈশ্বরদীতে।
ট্রেনটি চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম জানান, পাবনার মানুষের আবেগ ও চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া শেষ করে ২০ নভেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে রেলওয়ে কাজ করছে। নতুন এই সার্ভিসটি এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 
























