Hi

০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে নিরাপত্তা ঘটনায়, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) নিজের কার্যালয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি। বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এ সময় ৮-৯ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক তার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাকে চেয়ার থেকে টেনে হিঁচড়ে উঠিয়ে মারধর শুরু করেন। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজেও এমন চিত্র উঠে এসেছে।

পরিচালক কাজী আহমেদ জাকি দাবি করেছেন যে, বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এই মব সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সময় কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হামলাকারীদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআর প্রাঙ্গণে দেখেননি। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান।

এই হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ। মুঠোফোনে একটি ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, কাজী আহমেদেরও কিছু দোষ রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, তৎকালীন সরকারের সময়ে কাজী আহমেদ কীভাবে মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরার সঙ্গে নিজের অফিসে বৈঠক করেছিলেন, সেটিই তাদের ক্ষোভের কারণ। উল্লেখ্য, মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা গত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আইইডিসিআর রোগ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে থাকে। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।

হামলার শিকার অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি আইনানুগভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

বাংলাদেশে পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে নিরাপত্তা ঘটনায়, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৩:২৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) নিজের কার্যালয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি। বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এ সময় ৮-৯ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক তার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাকে চেয়ার থেকে টেনে হিঁচড়ে উঠিয়ে মারধর শুরু করেন। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজেও এমন চিত্র উঠে এসেছে।

পরিচালক কাজী আহমেদ জাকি দাবি করেছেন যে, বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এই মব সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সময় কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হামলাকারীদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআর প্রাঙ্গণে দেখেননি। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান।

এই হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ। মুঠোফোনে একটি ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, কাজী আহমেদেরও কিছু দোষ রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, তৎকালীন সরকারের সময়ে কাজী আহমেদ কীভাবে মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরার সঙ্গে নিজের অফিসে বৈঠক করেছিলেন, সেটিই তাদের ক্ষোভের কারণ। উল্লেখ্য, মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা গত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আইইডিসিআর রোগ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে থাকে। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।

হামলার শিকার অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি আইনানুগভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।