Hi

০৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও সুরক্ষার খুঁটিনাটি

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নানা প্রশ্ন প্রায়ই তৈরি হয়।

প্ল্যাটফর্মটি তাদের সেবা পরিচালনা এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, প্রোফাইল নাম এবং অ্যাপ ব্যবহারের কারিগরি বিভিন্ন উপাত্ত। মূলত তিনটি ভিন্ন উৎস থেকে হোয়াটসঅ্যাপ এসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। প্রথমত, কোনো ব্যবহারকারী যখন অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখন তিনি নিজে কিছু তথ্য প্রদান করেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো নিবন্ধন করার জন্য প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর। দ্বিতীয়ত, অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কারিগরি কিছু তথ্য সংগৃহীত হয়, যা ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা সচল রাখতে প্রয়োজন হয়। তৃতীয়ত, অন্য ব্যবহারকারীদের কন্ট্যাক্ট তালিকা থেকে হোয়াটসঅ্যাপ পরোক্ষভাবে কারও সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে। অর্থাৎ আপনার বন্ধু বা আত্মীয়রা যদি তাদের ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্টে আপনার নম্বরটি সংরক্ষণ করেন, তবে সেটি হোয়াটসঅ্যাপের কাছে পৌঁছে যায়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, হোয়াটসঅ্যাপ এসব তথ্য সংগ্রহ করার অর্থ কি তাদের ব্যক্তিগত চ্যাটের বিষয়বস্তু পড়ার সুযোগ থাকা? এর উত্তর হলো—না। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত চ্যাট এবং কলের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, অ্যাকাউন্ট ও সেবা ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত সব তথ্য এই এনক্রিপশনের আওতায় পড়ে না। এই প্রযুক্তিটি মূলত বার্তার আদান-প্রদানকে তৃতীয় পক্ষের নজরদারি থেকে রক্ষা করে।

নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব অনেকটাই ব্যবহারকারীর ওপর নির্ভর করে। হোয়াটসঅ্যাপে এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ নামে একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী তার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা সম্পর্কিত সেটিংস যাচাই করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস মেনু থেকে প্রাইভেসি অপশনে গিয়ে প্রোফাইল ছবি, সর্বশেষ অনলাইন থাকার সময়সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে দেওয়া সম্ভব। ব্যবহারকারী চাইলে তার প্রোফাইল তথ্য ‘সবাই’ (Everyone), ‘শুধু সংরক্ষিত পরিচিতি’ (My Contacts), ‘নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি’ (My Contacts Except) কিংবা ‘কেউই নন’ (Nobody)—এই চার অপশনের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।

পাশাপাশি কে বা কারা আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, তা-ও এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কথোপকথনের গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রয়োজনে বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার (Disappearing Messages) সুবিধা চালু করা যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত চ্যাট আরও সুরক্ষিত করতে ‘চ্যাট লক’ এবং ফোনের অ্যাপটি যেন অন্য কেউ খুলতে না পারে, সেজন্য ‘অ্যাপ লক’ ফিচার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার শুরু করলে বা ফোন হারিয়ে গেলে পুরনো চ্যাট ফিরে পেতে ব্যাকআপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই ব্যাকআপের ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারী চাইলে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করতে পারেন। এটি চালু করলে চ্যাটের বার্তা ও মিডিয়া ফাইলগুলো গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউডে এনক্রিপশন পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হয়। এই প্রক্রিয়াটি সুরক্ষিত রাখতে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড অথবা ৬৪ সংখ্যার একটি বিশেষ এনক্রিপশন কি (Encryption Key) ব্যবহার করা হয়। ফলে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া ব্যাকআপের ভেতরের তথ্য পড়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তবে এই ব্যাকআপ সুরক্ষার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। যদি ব্যবহারকারী ব্যাকআপের সেই পাসওয়ার্ড বা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি হারিয়ে ফেলেন, তবে ভবিষ্যতে সংরক্ষিত চ্যাট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না-ও হতে পারে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ চাইলেও এই ব্যাকআপ খুলে দিতে পারবে না কিংবা এনক্রিপশন কি উদ্ধার করে দিতে পারবে না। তাই তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা বা মনে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও সুরক্ষার খুঁটিনাটি

আপডেট : ০৪:২২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নানা প্রশ্ন প্রায়ই তৈরি হয়।

প্ল্যাটফর্মটি তাদের সেবা পরিচালনা এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, প্রোফাইল নাম এবং অ্যাপ ব্যবহারের কারিগরি বিভিন্ন উপাত্ত। মূলত তিনটি ভিন্ন উৎস থেকে হোয়াটসঅ্যাপ এসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। প্রথমত, কোনো ব্যবহারকারী যখন অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখন তিনি নিজে কিছু তথ্য প্রদান করেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো নিবন্ধন করার জন্য প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর। দ্বিতীয়ত, অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কারিগরি কিছু তথ্য সংগৃহীত হয়, যা ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা সচল রাখতে প্রয়োজন হয়। তৃতীয়ত, অন্য ব্যবহারকারীদের কন্ট্যাক্ট তালিকা থেকে হোয়াটসঅ্যাপ পরোক্ষভাবে কারও সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে। অর্থাৎ আপনার বন্ধু বা আত্মীয়রা যদি তাদের ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্টে আপনার নম্বরটি সংরক্ষণ করেন, তবে সেটি হোয়াটসঅ্যাপের কাছে পৌঁছে যায়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, হোয়াটসঅ্যাপ এসব তথ্য সংগ্রহ করার অর্থ কি তাদের ব্যক্তিগত চ্যাটের বিষয়বস্তু পড়ার সুযোগ থাকা? এর উত্তর হলো—না। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত চ্যাট এবং কলের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, অ্যাকাউন্ট ও সেবা ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত সব তথ্য এই এনক্রিপশনের আওতায় পড়ে না। এই প্রযুক্তিটি মূলত বার্তার আদান-প্রদানকে তৃতীয় পক্ষের নজরদারি থেকে রক্ষা করে।

নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব অনেকটাই ব্যবহারকারীর ওপর নির্ভর করে। হোয়াটসঅ্যাপে এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ নামে একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী তার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা সম্পর্কিত সেটিংস যাচাই করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস মেনু থেকে প্রাইভেসি অপশনে গিয়ে প্রোফাইল ছবি, সর্বশেষ অনলাইন থাকার সময়সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে দেওয়া সম্ভব। ব্যবহারকারী চাইলে তার প্রোফাইল তথ্য ‘সবাই’ (Everyone), ‘শুধু সংরক্ষিত পরিচিতি’ (My Contacts), ‘নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি’ (My Contacts Except) কিংবা ‘কেউই নন’ (Nobody)—এই চার অপশনের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।

পাশাপাশি কে বা কারা আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, তা-ও এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কথোপকথনের গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রয়োজনে বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার (Disappearing Messages) সুবিধা চালু করা যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত চ্যাট আরও সুরক্ষিত করতে ‘চ্যাট লক’ এবং ফোনের অ্যাপটি যেন অন্য কেউ খুলতে না পারে, সেজন্য ‘অ্যাপ লক’ ফিচার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার শুরু করলে বা ফোন হারিয়ে গেলে পুরনো চ্যাট ফিরে পেতে ব্যাকআপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই ব্যাকআপের ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারী চাইলে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করতে পারেন। এটি চালু করলে চ্যাটের বার্তা ও মিডিয়া ফাইলগুলো গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউডে এনক্রিপশন পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হয়। এই প্রক্রিয়াটি সুরক্ষিত রাখতে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড অথবা ৬৪ সংখ্যার একটি বিশেষ এনক্রিপশন কি (Encryption Key) ব্যবহার করা হয়। ফলে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া ব্যাকআপের ভেতরের তথ্য পড়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তবে এই ব্যাকআপ সুরক্ষার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। যদি ব্যবহারকারী ব্যাকআপের সেই পাসওয়ার্ড বা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি হারিয়ে ফেলেন, তবে ভবিষ্যতে সংরক্ষিত চ্যাট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না-ও হতে পারে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ চাইলেও এই ব্যাকআপ খুলে দিতে পারবে না কিংবা এনক্রিপশন কি উদ্ধার করে দিতে পারবে না। তাই তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা বা মনে রাখা একান্ত প্রয়োজন।