Hi

০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজের ইন্টারনেট ক্যাবলে ইরানের হুমকি: কাতারের সতর্কবার্তা

হরমুজ প্রণালির তলদেশে স্থাপিত সাতটি প্রধান ইন্টারনেট ফাইবার-অপটিক ক্যাবলকে লক্ষ্য করে ইরানের সামরিক বাহিনীর হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা হলে এর বিরূপ প্রভাবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে।

চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত ১৯ অক্টোবর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হুসেইন মাহবি নতুন ‘অস্ত্র ও লক্ষ্যবস্তুর’ ইঙ্গিত দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলগুলোতে হামলার হুমকি দেন। তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া এসব ক্যাবলের মাধ্যমেই অঞ্চলের ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক ডেটার অধিকাংশ প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হয়। তিনি এ সময় ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের সব শক্তিকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের বাহিনীটি ওই হুমকি দেয় বাহিনীটি।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িও ইতিপূর্বে সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরু হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রতলে থাকা ক্যাবলগুলো তাদের প্রধান হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। উল্লেখ্য, টেলিযোগাযোগ খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্যমতে, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি ডেটা আদান-প্রদান হয় লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া এসব ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে।

এর আগে মার্চ মাসের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামোয় ড্রোন হামলার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ক্লাউড সেবা মুখ থুবড়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অঞ্চলটির টেলিযোগাযোগ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, কেবল ইন্টারনেট নয়, হরমুজ প্রণালির পানির ওপর এই অঞ্চলের দেশগুলো সেচ, মৎস্য আহরণ ও লবণ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য নির্ভরশীল। তাই ক্যাবল সংযোগে বিঘ্ন ঘটলে তা পানির নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এমন হামলা হলে এর ফলে ইরান নিজেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কাতার জলপথটিকে লক্ষ্য করে চালানো যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক হুমকি এবং হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমুদ্রের তলদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা অপরিহার্য।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হরমুজের ইন্টারনেট ক্যাবলে ইরানের হুমকি: কাতারের সতর্কবার্তা

আপডেট : ০৩:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির তলদেশে স্থাপিত সাতটি প্রধান ইন্টারনেট ফাইবার-অপটিক ক্যাবলকে লক্ষ্য করে ইরানের সামরিক বাহিনীর হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা হলে এর বিরূপ প্রভাবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে।

চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত ১৯ অক্টোবর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হুসেইন মাহবি নতুন ‘অস্ত্র ও লক্ষ্যবস্তুর’ ইঙ্গিত দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলগুলোতে হামলার হুমকি দেন। তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া এসব ক্যাবলের মাধ্যমেই অঞ্চলের ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক ডেটার অধিকাংশ প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হয়। তিনি এ সময় ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের সব শক্তিকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের বাহিনীটি ওই হুমকি দেয় বাহিনীটি।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িও ইতিপূর্বে সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরু হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রতলে থাকা ক্যাবলগুলো তাদের প্রধান হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। উল্লেখ্য, টেলিযোগাযোগ খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্যমতে, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি ডেটা আদান-প্রদান হয় লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া এসব ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে।

এর আগে মার্চ মাসের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামোয় ড্রোন হামলার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ক্লাউড সেবা মুখ থুবড়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অঞ্চলটির টেলিযোগাযোগ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, কেবল ইন্টারনেট নয়, হরমুজ প্রণালির পানির ওপর এই অঞ্চলের দেশগুলো সেচ, মৎস্য আহরণ ও লবণ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য নির্ভরশীল। তাই ক্যাবল সংযোগে বিঘ্ন ঘটলে তা পানির নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এমন হামলা হলে এর ফলে ইরান নিজেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কাতার জলপথটিকে লক্ষ্য করে চালানো যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক হুমকি এবং হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমুদ্রের তলদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা অপরিহার্য।