Hi

০৩:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যবিপ্রবি অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন

দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস। রোববার পেটেন্ট অনুমোদনের মাধ্যমে এই উদ্ভাবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেল। ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হলেও দীর্ঘদিন তা প্রক্রিয়াধীন ও আটকে ছিল।

গবেষক ড. জাভেদ হোসেন খান জানান, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় আটকে থাকা পেটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যায়। পেটেন্ট অনুমোদনের পর তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণই তাঁদের গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের প্রধান লক্ষ্য। দেশের মাটি, কৃষি ও কৃষকের সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তাঁরা গবেষণা পরিচালনা করছেন।

কৃষি ও অর্থনীতিতে উদ্ভাবনের প্রভাব

উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির সুফল সম্পর্কে গবেষক জানান, ন্যানো ইউরিয়া সঠিকভাবে জমিতে প্রয়োগ করা সম্ভব হলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বহুগুণ বাড়বে। এর ফলে সারের অপচয় হ্রাস পাবে, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে জমিতে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর এ অর্জনকে অত্যন্ত গৌরবের বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, কেমি কৌশল বিভাগের অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের দীর্ঘদিনের সাধনা ও গবেষণার ফসল এই ন্যানো ইউরিয়া সার। এটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চমানের গবেষণার সক্ষমতাই প্রমাণ করে না, বরং দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রচলিত চাষাবাদে কম সার ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে উদ্ভিদের সমান পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ যেমন কমবে, তেমনি সরকারের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।

গবেষণার পটভূমি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

অধ্যাপক জাভেদ খান দীর্ঘদিন ধরে দেশে ন্যানোটেকনোলজি বিকাশে কাজ করছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং’ (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।

পেটেন্ট পাওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তিনি জানান, দেশীয় গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য এই পেটেন্ট এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন মূল লক্ষ্য হবে উদ্ভাবনটির কার্যকর বাণিজ্যিকীকরণ করা, কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সার পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী ভারতে ইতিমধ্যে ন্যানো ইউরিয়া প্রয়োগ করে চাষাবাদ হচ্ছে এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও একই বিষয়ে গবেষণা করছেন।

চৌহালীতে যমুনা নদীতে অভিযানে কারেন্ট জাল পোড়ানো হলো

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

যবিপ্রবি অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন

আপডেট : ০৮:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস। রোববার পেটেন্ট অনুমোদনের মাধ্যমে এই উদ্ভাবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেল। ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হলেও দীর্ঘদিন তা প্রক্রিয়াধীন ও আটকে ছিল।

গবেষক ড. জাভেদ হোসেন খান জানান, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় আটকে থাকা পেটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যায়। পেটেন্ট অনুমোদনের পর তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণই তাঁদের গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের প্রধান লক্ষ্য। দেশের মাটি, কৃষি ও কৃষকের সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তাঁরা গবেষণা পরিচালনা করছেন।

কৃষি ও অর্থনীতিতে উদ্ভাবনের প্রভাব

উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির সুফল সম্পর্কে গবেষক জানান, ন্যানো ইউরিয়া সঠিকভাবে জমিতে প্রয়োগ করা সম্ভব হলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বহুগুণ বাড়বে। এর ফলে সারের অপচয় হ্রাস পাবে, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে জমিতে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর এ অর্জনকে অত্যন্ত গৌরবের বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, কেমি কৌশল বিভাগের অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের দীর্ঘদিনের সাধনা ও গবেষণার ফসল এই ন্যানো ইউরিয়া সার। এটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চমানের গবেষণার সক্ষমতাই প্রমাণ করে না, বরং দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রচলিত চাষাবাদে কম সার ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে উদ্ভিদের সমান পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ যেমন কমবে, তেমনি সরকারের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।

গবেষণার পটভূমি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

অধ্যাপক জাভেদ খান দীর্ঘদিন ধরে দেশে ন্যানোটেকনোলজি বিকাশে কাজ করছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং’ (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।

পেটেন্ট পাওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তিনি জানান, দেশীয় গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য এই পেটেন্ট এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন মূল লক্ষ্য হবে উদ্ভাবনটির কার্যকর বাণিজ্যিকীকরণ করা, কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সার পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী ভারতে ইতিমধ্যে ন্যানো ইউরিয়া প্রয়োগ করে চাষাবাদ হচ্ছে এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও একই বিষয়ে গবেষণা করছেন।