বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার ২৬ অক্টোবরের মধ্যেই এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অর্ণব’, যা বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাম। বর্তমান তথ্যমতে, আগামী ২৮ অক্টোবর সকাল নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তমের মাঝামাঝি উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টি স্থলে প্রবেশের সময় এর সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ওড়িশা রাজ্য প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগাম সতর্কতাস্বরূপ গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর সমস্ত স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পরিস্থিতি সাপেক্ষে অন্যান্য জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন স্থানীয় জেলা শাসকরা। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। রাজ্যের পাঁচটি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি প্রশাসনকে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য জোরদার করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় ওড়িশার ৬০টি দল, ১৭টি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং দমকলের ২২৫টি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে বিপজ্জনক এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ২৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে কোথাও কোথাও ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পুদুচেরির কোস্ট রোড, কৃষ্ণনগর ও লাসপেট এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। চেন্নাই, নাগাপট্টিনম, কুড্ডালোর, কারাইকাল, পাম্বান ও তুতিকোরিনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তি পরিবর্তনের ওপর আবহাওয়া বিভাগ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং উপকূলের বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির কয়েকটি এলাকায় টানা বৃষ্টিতে পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 
























