Hi

০১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০১:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার। পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা শেষে বুধবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন ভক্তরা। বিকেলের দিকে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুপুর থেকেই ঢাকঢোল ও কাঁসর-ঘণ্টার শব্দে শোভাযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে ভক্তরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে নৌকায় করে নদীর মাঝে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হলে বিসর্জনস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করেন এবং নদীর পানি নিজেদের গায়ে ছিটিয়ে নেন।

এর আগে সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা। দেবীর চরণ স্পর্শ করে সিঁদুর অর্পণের পর তারা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন। বিসর্জন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীজুড়ে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শোভাযাত্রা ও ঘাটগুলোতে সোয়াত, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকেও সেখানে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও নিয়োজিত ছিল।

একইভাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে মূল আয়োজন শুরু হয়। এ ছাড়া অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জিত ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা পতেঙ্গা সৈকতে সমবেত হন। সেখানে উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে নাচে-গানে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে ভক্তরা প্রতিমায় তেল, পান, সিঁদুর ও মিষ্টি নিবেদন করেন। বিদায়ের অন্তিম মুহূর্তে অনেককে অশ্রুসজল চোখে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। বিসর্জন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল রাখতে প্রশাসন থেকে পৃথক পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মী মোতায়েন রাখা হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এবার নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ পান সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক মেলবন্ধনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব বরাবরই বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে ৩ দিন করে। ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।

দাম্মাম বিমানবন্দরে হুথি হামলায় নিহত ১, আহত ৮

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব

আপডেট : ০১:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার। পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা শেষে বুধবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন ভক্তরা। বিকেলের দিকে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুপুর থেকেই ঢাকঢোল ও কাঁসর-ঘণ্টার শব্দে শোভাযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে ভক্তরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে নৌকায় করে নদীর মাঝে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হলে বিসর্জনস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করেন এবং নদীর পানি নিজেদের গায়ে ছিটিয়ে নেন।

এর আগে সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা। দেবীর চরণ স্পর্শ করে সিঁদুর অর্পণের পর তারা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন। বিসর্জন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীজুড়ে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শোভাযাত্রা ও ঘাটগুলোতে সোয়াত, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকেও সেখানে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও নিয়োজিত ছিল।

একইভাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে মূল আয়োজন শুরু হয়। এ ছাড়া অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জিত ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা পতেঙ্গা সৈকতে সমবেত হন। সেখানে উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে নাচে-গানে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে ভক্তরা প্রতিমায় তেল, পান, সিঁদুর ও মিষ্টি নিবেদন করেন। বিদায়ের অন্তিম মুহূর্তে অনেককে অশ্রুসজল চোখে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। বিসর্জন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল রাখতে প্রশাসন থেকে পৃথক পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মী মোতায়েন রাখা হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এবার নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ পান সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক মেলবন্ধনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব বরাবরই বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে ৩ দিন করে। ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।