বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা মঞ্চের আলোয় উজ্জ্বল এক মুখ ছিলেন চূড়ান্ত সাহা। কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিরল এক ক্যানসার তার জীবনে নিয়ে আসে বড় ধাক্কা। মুখের বাঁ দিকে নাক, চোখ ও চোয়ালের অংশে ছড়িয়ে পড়া টিউমারের কারণে বদলে গেছে তার জীবন। শারীরিক যন্ত্রণা আর দীর্ঘ চিকিৎসার ধকল তার স্বাভাবিকতাকে কেড়ে নিলেও হার মানেননি তিনি। হাতের মুঠোয় তুলে নিয়েছেন তুলি আর কাগজ-কলম, যা হয়ে উঠেছে তার অনুভূতি প্রকাশের নতুন মাধ্যম। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘ফিশন বিক্রিয়া’ শুরু। পৃথিবীর সুস্থদের দিকে তাকাই গভীর ঈর্ষা নিয়ে। চূড়ান্ত সাহার আঁকা একটি ছবিতে লেখা এই পঙ্ক্তি যেন তার বর্তমান জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাপনের অনেকটাই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী কবি ও গদ্যকার হিসেবেও পরিচিত। ২০১৯ সালে প্রকাশিত তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বৈকুণ্ঠ হঠাৎ করে চিৎকার করে—কেউ আছো?’ এবং ২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘পরোক্ষ যাত্রী ও তিনটি কবিতা’ পাঠক মহলে সমাদৃত। তবে বর্তমানে রোগের কারণে দীর্ঘক্ষণ বসে লেখা তার জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে। চোয়াল অসাড় হয়ে যাওয়ায় এবং এক চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে আসায় তিনি এখন নিজের জগতকে সাজাচ্ছেন স্কেচ আর টাইপোগ্রাফিতে। মেসির দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ ফুটবলের সেরা ১০ তারকা।
এই লড়াই ও শিল্পচর্চার প্রতিফলন হিসেবে জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত হয়েছে তিন দিনের চিত্রপ্রদর্শনী ‘দেয়ালজুড়ে সাদা নৈঃশব্দ্য’। সাংস্কৃতিক সংগঠন গণকৃষ্টির আয়োজনে চলা এই প্রদর্শনীতে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চূড়ান্তর আঁকা ৬৩টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি তার চিকিৎসায় সহায়তার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
চূড়ান্তর শিল্পকর্মে উঠে এসেছে চিকিৎসার প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা। ‘তিতা স্বাদ’ শিরোনামের একটি বিমূর্ত চিত্রকর্ম তার কেমোথেরাপির পরবর্তী তিক্ত অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। আবার অন্য একটি ছবিতে ফুটে উঠেছে চা-পাতার অবয়ব, যা দিয়ে তিনি পাহাড়ি অঞ্চলের চা-শ্রমিকদের জীবনের সংগ্রাম নিয়ে কাজ করার দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে তুলে ধরেছেন। চূড়ান্তের মতে, ‘ছবির সঙ্গে কথার কোনো মিল নেই। বরং ছবিগুলো স্বতঃস্ফূর্ত, কথাগুলো সচেতন।’
চিকিৎসার জন্য ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তাকে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে আয়োজক দলের সদস্য মাইমুনা জানান, চিকিৎসার প্রথম ধাপে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ টাকা। পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৪০ লাখ টাকার বেশি। এই বিপুল খরচ বহন করা পরিবারের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ায় সহযাত্রী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। বিশ্লেষণ / সৌদি বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, বিস্ফোরণের শব্দ ও অগ্নিকাণ্ড।
ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের এই পথে চূড়ান্ত এখন কিছুটা বিচ্ছিন্ন। মুখের একপাশ অবশ হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছবি ও লেখার মাধ্যমে পৃথিবীকে তার উপলব্ধির কথা জানিয়ে যাচ্ছেন। তার এই আয়োজন কেবল ব্যক্তিগত যন্ত্রণার দলিল নয়, বরং কঠিন বাস্তবতার মাঝেও বেঁচে থাকার দৃপ্ত আকাঙ্ক্ষার এক শিল্পিত প্রকাশ। একসময় ক্যাম্পাসের রাজপথ, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর মঞ্চে সরব থাকা এই তরুণ এখন লড়ছেন বিরল এক ক্যানসারের সঙ্গে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি
- শামীম হত্যা মামলা: ২ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত, বিচারের অপেক্ষায় পরিবার
- জাবিতে র্যাগিং: ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা
- গবেষণাপত্রে এআই ব্যবহারের অভিযোগ, জাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
রিপোর্টার নাম: 























