Hi

০৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি ভোট ভিক্ষা চেয়েছে: শফিকুর রহমান

নির্বাচনের সময় নানা কৌশলী কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি ভোট ভিক্ষা চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা নিজেও প্রশ্ন তুলেছেন যে, হাতে-পায়ে ধরে ভোট নিয়ে এখন কেন বেইমানি করা হচ্ছে। তার দলের আরেকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেছেন, যে বিএনপি নির্বাচনে ন্যূনতম ৯৫টি আসনে হেরে গিয়েছিল, তাদের ভোট দিয়েই জিতিয়ে আনা হয়েছে। জামায়াত আমিরের ভাষ্যমতে, বিএনপি এখন নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্ট শক্তির সাথে আঁতাতের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। জামায়াত নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে—এমন অভিযোগও করা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনেক নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পদে এমনকি বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বসানো হচ্ছে। এরপরই সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসা বা জামায়াতের বিরুদ্ধে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ আনা হয়। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, যদি সরকার সীমান্তের ওপার থেকে আসা অস্ত্র, মাদক ও অর্থ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কোথায়? এ প্রসঙ্গে তিনি একটি উপমা দিয়ে বিএনপির সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে বিএনপির নিজস্ব লোকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জনগণের ওপর ক্রমবর্ধমান করের বোঝা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির কারণে বর্তমানে এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কৃষক ন্যায্য দাম না পেয়ে পঞ্চগড়ে লাউ খালে ফেলে দিচ্ছেন, অথচ সেই একই লাউ ঢাকায় ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাসের মধ্যেই মানুষের আস্থা হারিয়েছে। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় কেবল সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদত্যাগই হয়েছে, কিন্তু তাকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। তার দাবি, সরকার এসব ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। প্রবাসে অস্থিরতার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসছেন, কিন্তু তাদের জন্য সরকারি কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা নিজেরাই সংসদে মাদকের বড় চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকার মধ্য দিয়ে আসার অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া দিনের বেলা ৫০টি ট্রাকে ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটছে। সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে সরকারকে দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনগণকে বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়ার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, কয়জনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং আরও কতজনকে দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়।

ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাসী নয় এবং তারা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছে। তা না হলে সরে দাঁড়ানোর কথাও বলেন।

তারা কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং জনগণের অধিকারের দাবির জন্য মাঠে নেমেছেন। জামায়াতের আমির বলেন, তারা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের দাবি নিয়ে মাঠে নামেননি; জনগণের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন।

এসব দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন থেকে তাদের সরাতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তারা অপমানের মৃত্যু বরণ করতে চান না এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাবেন। গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং তারা আর পুরোনো রাজনীতি দেখতে চান না। তিনি বলেন, ‘জন্ম যখন নিয়েছি, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের সঙ্গেই।

জাপানের সহায়তায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো শেষ করার ওপর প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি ভোট ভিক্ষা চেয়েছে: শফিকুর রহমান

আপডেট : ০৩:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নির্বাচনের সময় নানা কৌশলী কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি ভোট ভিক্ষা চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা নিজেও প্রশ্ন তুলেছেন যে, হাতে-পায়ে ধরে ভোট নিয়ে এখন কেন বেইমানি করা হচ্ছে। তার দলের আরেকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেছেন, যে বিএনপি নির্বাচনে ন্যূনতম ৯৫টি আসনে হেরে গিয়েছিল, তাদের ভোট দিয়েই জিতিয়ে আনা হয়েছে। জামায়াত আমিরের ভাষ্যমতে, বিএনপি এখন নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্ট শক্তির সাথে আঁতাতের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। জামায়াত নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে—এমন অভিযোগও করা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনেক নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পদে এমনকি বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বসানো হচ্ছে। এরপরই সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসা বা জামায়াতের বিরুদ্ধে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ আনা হয়। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, যদি সরকার সীমান্তের ওপার থেকে আসা অস্ত্র, মাদক ও অর্থ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কোথায়? এ প্রসঙ্গে তিনি একটি উপমা দিয়ে বিএনপির সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে বিএনপির নিজস্ব লোকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জনগণের ওপর ক্রমবর্ধমান করের বোঝা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির কারণে বর্তমানে এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কৃষক ন্যায্য দাম না পেয়ে পঞ্চগড়ে লাউ খালে ফেলে দিচ্ছেন, অথচ সেই একই লাউ ঢাকায় ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাসের মধ্যেই মানুষের আস্থা হারিয়েছে। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় কেবল সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদত্যাগই হয়েছে, কিন্তু তাকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। তার দাবি, সরকার এসব ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। প্রবাসে অস্থিরতার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসছেন, কিন্তু তাদের জন্য সরকারি কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা নিজেরাই সংসদে মাদকের বড় চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকার মধ্য দিয়ে আসার অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া দিনের বেলা ৫০টি ট্রাকে ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটছে। সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে সরকারকে দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনগণকে বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়ার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, কয়জনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং আরও কতজনকে দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়।

ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাসী নয় এবং তারা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছে। তা না হলে সরে দাঁড়ানোর কথাও বলেন।

তারা কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং জনগণের অধিকারের দাবির জন্য মাঠে নেমেছেন। জামায়াতের আমির বলেন, তারা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের দাবি নিয়ে মাঠে নামেননি; জনগণের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন।

এসব দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন থেকে তাদের সরাতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তারা অপমানের মৃত্যু বরণ করতে চান না এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাবেন। গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং তারা আর পুরোনো রাজনীতি দেখতে চান না। তিনি বলেন, ‘জন্ম যখন নিয়েছি, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের সঙ্গেই।