শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এফডিসিতে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন যে, অপরাধীদের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকে না; তারা মূলত সুবিধাবাদী। যেখানেই তারা বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পায়, সেখানেই আশ্রয় খোঁজে। তাই রাজনৈতিক নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
মাদক কারবারিদের সঙ্গে সরকারি দলের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দল দুটি ভিন্ন সত্তা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিরাই সরকার পরিচালনা করেন, তবে দল ও প্রশাসন স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে। আইন বা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি জানান, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কোনো অভাব নেই। সবকিছু শতভাগ নিখুঁত না হলেও প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা এবং সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক এবং কড়া নজর রাখছেন। তবে সরকারের পরিধি অনেক বড় এবং সবাই একই চিন্তা-চেতনা নিয়ে কাজ করেন—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
পুলিশ বা মাঠ প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। সরকারের পরিধি বিশাল হওয়ায় সবার কর্মপদ্ধতি একই রকম কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া মাত্রই সরকারের সঙ্গে জড়িত যে কারো বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যতক্ষণ প্রমাণিত না হচ্ছে, ততক্ষণ ঢালাওভাবে ব্যবস্থা নেওয়া চ্যালেঞ্জিং।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি জানান, বাংলাদেশে সরাসরি মাদক উৎপাদন না হলেও ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত মাদক প্রবেশ করছে। বিশেষ করে ৩২টি সীমান্ত পথ দিয়ে ইয়াবা ও আইসসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক আসছে। এছাড়া চোরাকারবারিরা মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে নগদ অর্থের পরিবর্তে তৈরি পোশাক, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও নির্মাণসামগ্রী বিনিময় করছে, যা ‘নার্কো কারেন্সি’ হিসেবে পরিচিত। তিনি সতর্ক করেন যে, মিয়ানমার সীমান্ত পথে এই মুদ্রার ব্যবহার ভবিষ্যতে বড় ধরনের জাতীয় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই কেবল অভিযানের ওপর নির্ভর না করে প্রতিরোধমূলক শিক্ষা ও পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। ৩২টি সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ব্যাপক হারে মাদক আসছে। তাই কেবল অভিযান চালালেই চলবে না, বরং প্রতিরোধমূলক শিক্ষা, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। চূড়ান্ত ফলাফলে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটি। তুমুল প্রতিযোগিতাবাজ এই বিতর্কে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রিপোর্টার নাম: 

























