Hi

১২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাবারের সঠিক সময় ও হজম প্রক্রিয়া: কোন খাবার হজম হতে কতক্ষণ সময় লাগে?

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:০৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ জন দেখেছে

মানুষের শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতার ওপর। খাবার গ্রহণ থেকে শুরু করে তা ভেঙে পুষ্টিতে পরিণত হওয়া এবং অবশেষে শরীর থেকে নিষ্কাশিত হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি একটি অত্যন্ত জটিল ও বিস্ময়কর নেটওয়ার্ক। ব্যক্তির শারীরিক গঠন, বয়স, মেটাবোলিজম এবং লিঙ্গভেদে হজম প্রক্রিয়ার সময় ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত খাদ্য পরিপাকনালীর ভেতর দিয়ে যেতে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় নেয়, যা মূলত খাবারের ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল।

হজম প্রক্রিয়ার পাঁচটি প্রধান ধাপ

  • গ্রহণ: মুখগহ্বরে লালার সংমিশ্রণে কার্বোহাইড্রেট ভাঙার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়।
  • খাদ্যনালী: চিবানো খাবার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খাদ্যনালীর মাধ্যমে পাকস্থলীতে পৌঁছায়।
  • পাকস্থলী: এখানে খাবার গ্যাস্ট্রিক জুস ও এনজাইমের সাথে মিশে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা অবস্থান করে আধা-তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়।
  • ক্ষুদ্রান্ত্র: এটি পুষ্টি শোষণের প্রধান কেন্দ্র, যেখানে খাবার ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা থাকে এবং রক্তে প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট শোষিত হয়।
  • বৃহদান্ত্র: পরিপাক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে অবশিষ্টাংশ ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এখানে থাকতে পারে, যেখানে পানি শোষিত হয়ে মল তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, পুরো পরিপাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ২৩ থেকে ৩৭ দশমিক ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এর মধ্যে পাকস্থলী খালি হতে ৩ দশমিক ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা, ক্ষুদ্রান্ত্র অতিক্রম করতে ৩ দশমিক ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা এবং বৃহদান্ত্রে ১৫ দশমিক ৯ থেকে ২৮ দশমিক ৯ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। দ্রুত হজমযোগ্য খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়, যা ব্যবহৃত না হলে চর্বিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, ধীর গতির হজমযোগ্য খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তির জোগান দেয়।

খাবারভেদে হজমের সময়সীমা

বিভিন্ন ধরনের খাবার হজম হতে ভিন্ন সময় নেয়। পানি পান করার সাথে সাথেই শোষিত হয় (০-১০ মিনিট)। পানিসমৃদ্ধ ফল যেমন তরমুজ, বাঙ্গি বা আঙুর ২০-৩০ মিনিটে এবং কমলা, আনারস বা কিউই জাতীয় অম্লীয় ফল ৩০-৪০ মিনিটে হজম হয়। আপেল, নাশপাতি ও পেঁপে হজম হতে ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগে। কাঁচা শাকসবজি ৩০-৪০ মিনিটে এবং রান্না করা সবজি ৪০-৫০ মিনিটে হজম হয়।

শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে ভাত, রুটি ও আলু হজম হতে প্রায় ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা সময় নেয়। ডাল, ছোলা বা সয়াবিনের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ২-৩ ঘণ্টা এবং মাছ ১ ঘণ্টায় হজম হয়। মুরগির মাংস ২-৩ ঘণ্টা এবং গরু বা খাসির মাংস ৩-৪ ঘণ্টা সময় নেয়। এছাড়া ডিমের কুসুম ৩০ মিনিটে ও সাদা অংশ ৪৫ মিনিটে হজম হয়। দুগ্ধজাত খাবার যেমন দই বা পনির হজম হতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে। চিনি ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে হজম হয়ে যায়, তবে ফাস্টফুড ও তেলেভাজা খাবার হজম হতে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় নিতে পারে।

সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টিবিদরা দিনের প্রথম ভাগে ভারী খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। ফলমূল সবসময় খালি পেটে বা প্রধান খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত। এছাড়া পানি খাবারের ঠিক আগে বা ৩০ মিনিট পরে পান করা স্বাস্থ্যসম্মত। রাতে হালকা খাবার গ্রহণ এবং দ্রুত রাতের খাবার শেষ করা হজমজনিত সমস্যা ও অকাল সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। মনে রাখতে হবে, বংশগত কারণ ও শারীরিক পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করেও হজমের সময় পরিবর্তিত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবান হওয়ার রহস্য লুকিয়ে থাকে মূলত অন্ত্রে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা কী খাচ্ছি তার ওপরও নির্ভর করে হজমের হার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোনো কিছু খাওয়ার পর তা হজমের প্রভাব সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই সঠিক সময়ে সঠিক খাবারটি বাছাই করা এবং খাবারের কার্যকারিতা জানা অত্যন্ত জরুরী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্রুত হজমযোগ্য খাবার আপনি যদি দ্রুত হজমযোগ্য খাবার খান, তাহলে দেখবেন আপনার যতটা প্রয়োজন তার থেকে বেশি খাবার খাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধীরে হজম হওয়া খাবার ধীরে হজম হওয়া খাবার আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ অনেকটাই ধীরে গতিতে বাড়ায়, সুস্থিত ও ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি প্রদান করে।

জনপ্রিয়

খাবারের সঠিক সময় ও হজম প্রক্রিয়া: কোন খাবার হজম হতে কতক্ষণ সময় লাগে?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

খাবারের সঠিক সময় ও হজম প্রক্রিয়া: কোন খাবার হজম হতে কতক্ষণ সময় লাগে?

আপডেট : ১২:০৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষের শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতার ওপর। খাবার গ্রহণ থেকে শুরু করে তা ভেঙে পুষ্টিতে পরিণত হওয়া এবং অবশেষে শরীর থেকে নিষ্কাশিত হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি একটি অত্যন্ত জটিল ও বিস্ময়কর নেটওয়ার্ক। ব্যক্তির শারীরিক গঠন, বয়স, মেটাবোলিজম এবং লিঙ্গভেদে হজম প্রক্রিয়ার সময় ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত খাদ্য পরিপাকনালীর ভেতর দিয়ে যেতে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় নেয়, যা মূলত খাবারের ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল।

হজম প্রক্রিয়ার পাঁচটি প্রধান ধাপ

  • গ্রহণ: মুখগহ্বরে লালার সংমিশ্রণে কার্বোহাইড্রেট ভাঙার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়।
  • খাদ্যনালী: চিবানো খাবার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খাদ্যনালীর মাধ্যমে পাকস্থলীতে পৌঁছায়।
  • পাকস্থলী: এখানে খাবার গ্যাস্ট্রিক জুস ও এনজাইমের সাথে মিশে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা অবস্থান করে আধা-তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়।
  • ক্ষুদ্রান্ত্র: এটি পুষ্টি শোষণের প্রধান কেন্দ্র, যেখানে খাবার ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা থাকে এবং রক্তে প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট শোষিত হয়।
  • বৃহদান্ত্র: পরিপাক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে অবশিষ্টাংশ ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এখানে থাকতে পারে, যেখানে পানি শোষিত হয়ে মল তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, পুরো পরিপাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ২৩ থেকে ৩৭ দশমিক ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এর মধ্যে পাকস্থলী খালি হতে ৩ দশমিক ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা, ক্ষুদ্রান্ত্র অতিক্রম করতে ৩ দশমিক ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা এবং বৃহদান্ত্রে ১৫ দশমিক ৯ থেকে ২৮ দশমিক ৯ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। দ্রুত হজমযোগ্য খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়, যা ব্যবহৃত না হলে চর্বিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, ধীর গতির হজমযোগ্য খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তির জোগান দেয়।

খাবারভেদে হজমের সময়সীমা

বিভিন্ন ধরনের খাবার হজম হতে ভিন্ন সময় নেয়। পানি পান করার সাথে সাথেই শোষিত হয় (০-১০ মিনিট)। পানিসমৃদ্ধ ফল যেমন তরমুজ, বাঙ্গি বা আঙুর ২০-৩০ মিনিটে এবং কমলা, আনারস বা কিউই জাতীয় অম্লীয় ফল ৩০-৪০ মিনিটে হজম হয়। আপেল, নাশপাতি ও পেঁপে হজম হতে ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগে। কাঁচা শাকসবজি ৩০-৪০ মিনিটে এবং রান্না করা সবজি ৪০-৫০ মিনিটে হজম হয়।

শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে ভাত, রুটি ও আলু হজম হতে প্রায় ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা সময় নেয়। ডাল, ছোলা বা সয়াবিনের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ২-৩ ঘণ্টা এবং মাছ ১ ঘণ্টায় হজম হয়। মুরগির মাংস ২-৩ ঘণ্টা এবং গরু বা খাসির মাংস ৩-৪ ঘণ্টা সময় নেয়। এছাড়া ডিমের কুসুম ৩০ মিনিটে ও সাদা অংশ ৪৫ মিনিটে হজম হয়। দুগ্ধজাত খাবার যেমন দই বা পনির হজম হতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে। চিনি ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে হজম হয়ে যায়, তবে ফাস্টফুড ও তেলেভাজা খাবার হজম হতে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় নিতে পারে।

সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টিবিদরা দিনের প্রথম ভাগে ভারী খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। ফলমূল সবসময় খালি পেটে বা প্রধান খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত। এছাড়া পানি খাবারের ঠিক আগে বা ৩০ মিনিট পরে পান করা স্বাস্থ্যসম্মত। রাতে হালকা খাবার গ্রহণ এবং দ্রুত রাতের খাবার শেষ করা হজমজনিত সমস্যা ও অকাল সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। মনে রাখতে হবে, বংশগত কারণ ও শারীরিক পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করেও হজমের সময় পরিবর্তিত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবান হওয়ার রহস্য লুকিয়ে থাকে মূলত অন্ত্রে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা কী খাচ্ছি তার ওপরও নির্ভর করে হজমের হার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোনো কিছু খাওয়ার পর তা হজমের প্রভাব সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই সঠিক সময়ে সঠিক খাবারটি বাছাই করা এবং খাবারের কার্যকারিতা জানা অত্যন্ত জরুরী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্রুত হজমযোগ্য খাবার আপনি যদি দ্রুত হজমযোগ্য খাবার খান, তাহলে দেখবেন আপনার যতটা প্রয়োজন তার থেকে বেশি খাবার খাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধীরে হজম হওয়া খাবার ধীরে হজম হওয়া খাবার আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ অনেকটাই ধীরে গতিতে বাড়ায়, সুস্থিত ও ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি প্রদান করে।