Hi

১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরির তদন্তে বড় অগ্রগতি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত রাম মন্দিরে দানবাক্স থেকে টাকা চুরির ঘটনা তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরায় অন্তত ১০৫টি চুরির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ধরা পড়েছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

আদালতকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। এই চার্জশিট দাখিলের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

এসআইটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমেই অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আদালত এই প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন। মন্দিরের মূল্যবান সামগ্রী ও দানের রসিদ এখন সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংগৃহীত অর্থ স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নির্দিষ্ট লকারে রাখা হয় বলেও জানানো হয়।

এই ঘটনায় বর্তমানে আটজন আসামি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৩ (১)(এ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। চুরির বিষয়টি সামনে আসার পর মন্দির ট্রাস্টের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে সিইও-নেতৃত্বাধীন একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিতেন্দ্র মিশ্রকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী তিন সদস্যের এসআইটি গত ১৩ জুন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গঠন করা হয়। দলটি কার্যক্রম শুরুর পর গত ২৩ জুন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল এবং বেশ কিছু কঠোর সুপারিশ করেছিল। বর্তমান ঘটনাটি নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য সমসাময়িক ঘটনার মধ্যে মণিপুরে হঠাৎ অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দুই দিনে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদিকে, পাকিস্তানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং পাকিস্তানে জ্বালানি শুল্কের প্রতিবাদে জামায়াতের ট্রেনমার্চের মতো ঘটনাও আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় এক বাংলাদেশি নৌ-সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং আইজিপিসহ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জ্বালানির বাড়তি শুল্ক বাতিলের দাবিতে পাকিস্তানে জামায়াতের ট্রেনমার্চ।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরির তদন্তে বড় অগ্রগতি

আপডেট : ১০:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত রাম মন্দিরে দানবাক্স থেকে টাকা চুরির ঘটনা তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরায় অন্তত ১০৫টি চুরির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ধরা পড়েছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

আদালতকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। এই চার্জশিট দাখিলের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

এসআইটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমেই অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আদালত এই প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন। মন্দিরের মূল্যবান সামগ্রী ও দানের রসিদ এখন সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংগৃহীত অর্থ স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নির্দিষ্ট লকারে রাখা হয় বলেও জানানো হয়।

এই ঘটনায় বর্তমানে আটজন আসামি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৩ (১)(এ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। চুরির বিষয়টি সামনে আসার পর মন্দির ট্রাস্টের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে সিইও-নেতৃত্বাধীন একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিতেন্দ্র মিশ্রকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী তিন সদস্যের এসআইটি গত ১৩ জুন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গঠন করা হয়। দলটি কার্যক্রম শুরুর পর গত ২৩ জুন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল এবং বেশ কিছু কঠোর সুপারিশ করেছিল। বর্তমান ঘটনাটি নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য সমসাময়িক ঘটনার মধ্যে মণিপুরে হঠাৎ অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দুই দিনে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদিকে, পাকিস্তানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং পাকিস্তানে জ্বালানি শুল্কের প্রতিবাদে জামায়াতের ট্রেনমার্চের মতো ঘটনাও আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় এক বাংলাদেশি নৌ-সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং আইজিপিসহ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জ্বালানির বাড়তি শুল্ক বাতিলের দাবিতে পাকিস্তানে জামায়াতের ট্রেনমার্চ।