Hi

০২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান: আমলাতন্ত্রের বাইরে শিক্ষক নেতৃত্বে প্রত্যাশা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ জন দেখেছে

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি তাঁকে এই সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর অথবা তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।

পিএসসির নেতৃত্বে আবারও একজন শিক্ষকের অন্তর্ভুক্তি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। তাঁর পদত্যাগের পর এবার আইন বিভাগের একজন অধ্যাপককে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো। পরপর দুইবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, সরকার পিএসসির নেতৃত্বে আমলাতন্ত্রের বাইরে নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজছে।

সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমলাতন্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তবে যে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের আমলাদের বাছাই করবে, তার নেতৃত্বও যে আমলাদের মধ্য থেকেই আসতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং বাইরের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একজন আইন অধ্যাপকের নেতৃত্ব পিএসসির মতো একটি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে অনেকের প্রত্যাশা।

পিএসসির মূল দায়িত্ব কেবল বিসিএস পরীক্ষা নেওয়া নয়, বরং রাষ্ট্রের জন্য যোগ্য জনবল নির্বাচন করা। একজন তরুণ যখন বছরের পর বছর পড়াশোনা করে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন, তখন তিনি আশা করেন যে তাঁর মেধা ও যোগ্যতাই মূল্যায়িত হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের নিয়োগ জটিলতা, পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা এবং অনিয়মের অভিযোগ তরুণদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি করেছে। তাই নতুন চেয়ারম্যানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

আইনের শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়ার কাছ থেকে ন্যায্যতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান প্রত্যাশা করাটা যৌক্তিক। তবে শুধু শিক্ষক হলেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে, তা নয়। একজন চেয়ারম্যানের সাফল্য নির্ভর করবে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সক্ষমতার ওপর। নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘আমলা বনাম শিক্ষক’ এই সরলীকৃত বিতর্কের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন বেশি জরুরি।

নতুন চেয়ারম্যানের জন্য প্রধান কাজ হবে পিএসসিকে এমন একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, যেখানে কোনো প্রভাব বা পরিচয় ছাড়াই একজন মেধাবী তরুণ নিজের যোগ্যতায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক বা যেকোনো অযাচিত প্রভাব থেকে মুক্ত রাখাই হবে তাঁর নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা।

পরিশেষে, চেয়ারম্যানের পরিচয় ‘শিক্ষক’ নাকি ‘আমলা’—তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, তাঁর নেতৃত্বে পিএসসি কতটা স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। যদি একজন যোগ্য প্রার্থী কোনো প্রকার তদবির বা প্রভাব ছাড়াই নিজের মেধার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের চাকরিতে জায়গা করে নিতে পারেন, তবেই এই নিয়োগের প্রকৃত সাফল্য অর্জিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দায়িত্ব গ্রহণের পর ৫ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটবে, সে পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। চাকরির আরও তথ্য: ফলে পিএসসির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে তাঁর নিয়োগকে আমি কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ধারাবাহিকতা আমার কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষা, পিএসসিতে যোগদানে এসে আটক প্রার্থীকে থানায় হস্তান্তর। চাকরির আরও তথ্য: কিন্তু বাংলাদেশের নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এইচ-৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি বাতিল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বেশি বিপাকে পড়বেন কারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইভাবে আমলা হওয়াও কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য করে না।

জনপ্রিয়

২০০ বছর পর কন্যাসন্তানের জন্ম: রাজকীয় আয়োজনে বাড়িতে বরণ করল দহিফলে পরিবার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান: আমলাতন্ত্রের বাইরে শিক্ষক নেতৃত্বে প্রত্যাশা

আপডেট : ১১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি তাঁকে এই সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর অথবা তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।

পিএসসির নেতৃত্বে আবারও একজন শিক্ষকের অন্তর্ভুক্তি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। তাঁর পদত্যাগের পর এবার আইন বিভাগের একজন অধ্যাপককে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো। পরপর দুইবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, সরকার পিএসসির নেতৃত্বে আমলাতন্ত্রের বাইরে নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজছে।

সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমলাতন্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তবে যে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের আমলাদের বাছাই করবে, তার নেতৃত্বও যে আমলাদের মধ্য থেকেই আসতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং বাইরের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একজন আইন অধ্যাপকের নেতৃত্ব পিএসসির মতো একটি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে অনেকের প্রত্যাশা।

পিএসসির মূল দায়িত্ব কেবল বিসিএস পরীক্ষা নেওয়া নয়, বরং রাষ্ট্রের জন্য যোগ্য জনবল নির্বাচন করা। একজন তরুণ যখন বছরের পর বছর পড়াশোনা করে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন, তখন তিনি আশা করেন যে তাঁর মেধা ও যোগ্যতাই মূল্যায়িত হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের নিয়োগ জটিলতা, পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা এবং অনিয়মের অভিযোগ তরুণদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি করেছে। তাই নতুন চেয়ারম্যানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

আইনের শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়ার কাছ থেকে ন্যায্যতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান প্রত্যাশা করাটা যৌক্তিক। তবে শুধু শিক্ষক হলেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে, তা নয়। একজন চেয়ারম্যানের সাফল্য নির্ভর করবে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সক্ষমতার ওপর। নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘আমলা বনাম শিক্ষক’ এই সরলীকৃত বিতর্কের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন বেশি জরুরি।

নতুন চেয়ারম্যানের জন্য প্রধান কাজ হবে পিএসসিকে এমন একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, যেখানে কোনো প্রভাব বা পরিচয় ছাড়াই একজন মেধাবী তরুণ নিজের যোগ্যতায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক বা যেকোনো অযাচিত প্রভাব থেকে মুক্ত রাখাই হবে তাঁর নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা।

পরিশেষে, চেয়ারম্যানের পরিচয় ‘শিক্ষক’ নাকি ‘আমলা’—তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, তাঁর নেতৃত্বে পিএসসি কতটা স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। যদি একজন যোগ্য প্রার্থী কোনো প্রকার তদবির বা প্রভাব ছাড়াই নিজের মেধার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের চাকরিতে জায়গা করে নিতে পারেন, তবেই এই নিয়োগের প্রকৃত সাফল্য অর্জিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দায়িত্ব গ্রহণের পর ৫ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটবে, সে পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। চাকরির আরও তথ্য: ফলে পিএসসির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে তাঁর নিয়োগকে আমি কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ধারাবাহিকতা আমার কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষা, পিএসসিতে যোগদানে এসে আটক প্রার্থীকে থানায় হস্তান্তর। চাকরির আরও তথ্য: কিন্তু বাংলাদেশের নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এইচ-৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি বাতিল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বেশি বিপাকে পড়বেন কারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইভাবে আমলা হওয়াও কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য করে না।