দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে লড়তে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আগামী কাল ডারউইনের ঐতিহাসিক মাঠে শুরু হতে যাওয়া এই দ্বিপক্ষীয় সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে উভয় শিবিরে চলছে শেষ মুহূর্তের নিবিড় প্রস্তুতি। খেলা শুরুর আগে ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান এবং ফটোসেশনে দুই দলের অধিনায়কসহ ক্রিকেটারদের সরব উপস্থিতি গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স নিজ নিজ দলের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন। ডারউইনের কন্ডিশন এবং পিচের আচরণ কীভাবে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনুশীলনের মাঠে টাইগারদের ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে। স্লিপে ক্যাচিং অনুশীলন, নেটে পেস ও স্পিন সামলানোর টেকনিক নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন কোচিং স্টাফরা। মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীমের মতো ব্যাটাররা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
বিশেষ করে মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহীমের অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা এই সিরিজে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি হতে পারে। উইকেটকিপার ব্যাটার জাকের আলী অনিক ও লিটন দাসের চনমনে উপস্থিতি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ফুরফুরে মেজাজ ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া ইতিবাচক রাখছে। কোচ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা দলীয় শক্তিকে আরও সুসংহত করেছে। অজি কন্ডিশনে স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণ মোকাবিলা করা যেকোনো দলের জন্যই বড় পরীক্ষা, আর সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে টাইগাররা নিজেদের শতভাগ নিংড়ে দিতে মুখিয়ে আছে।
অন্যদিকে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও এই সিরিজটি উভয় দলের জন্যই মর্যাদার লড়াই। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল নিজেদের কন্ডিশনে অপ্রতিরোধ্য হলেও বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অজি শিবির। সব মিলিয়ে, সাদা পোশাকের এই লড়াই শুরু হওয়ার আগে ট্রফি হাতে দুই অধিনায়কের হাসিমুখ এবং অনুশীলনের রঙিন মুহূর্তগুলো ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে রোমাঞ্চ জাগাচ্ছে। কার হাতে উঠবে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই ট্রফি, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ২২ গজের লড়াইয়ে নামার আগে মানসিকভাবে দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
রিপোর্টার নাম: 























