সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় বেতন স্কেল (পে-স্কেল)-২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নতুন বেতন কাঠামোয় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই নতুন বেতন ব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নতুন স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১লা জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
নতুন বেতন স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন আগের তুলনায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে এই বর্ধিত বেতন একবারে কার্যকর না করে ২০২৬ সালের ১লা জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১লা জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতেই এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বেতন কাঠামোর অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ভাতা ২০২৮ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বাড়তি পরিচর্যা ও পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা বিবেচনা করে এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ভাতার আওতা বাড়িয়ে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সব সরকারি কর্মচারীকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগে শুধু ৫ম গ্রেড পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।
পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোয় বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) এখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলেও, ২০৩০ সালের মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে পেনশন বাড়ানোর নতুন ফর্মুলা অনুমোদন করা হয়েছে, যাতে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা বেশি হারে সুবিধা পাবেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশনভোগীরা ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি পেনশনভোগীরা ৫৫ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন।
নতুন এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীসহ মোট ৩৩ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন ব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। চাকরির আরও তথ্য: মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি এবং এর জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এত দিন ৫ম গ্রেড পর্যন্ত নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি দপ্তরগুলোতে ই-মেইল, অনলাইন সভা, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কাজ বাড়ায় প্রায় সব পর্যায়ের কর্মচারীকেই ব্যক্তিগত মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 






















