ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সফল ক্লাব লিভারপুলের সঙ্গে দীর্ঘ নয় বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। অ্যানফিল্ডের মায়া কাটিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন তুর্কি সুপার লিগের পরিচিত ক্লাব ট্রাবজনস্পোরে। নতুন ক্লাবে যোগ দিতে তুরস্কে পৌঁছানোর পর সালাহকে ঘিরে যে উন্মাদনা দেখা গেছে, তা ইউরোপীয় ফুটবলে বেশ বিরল। ক্লাবটির নিজস্ব স্টেডিয়াম পাপারা পার্কে হাজার হাজার উল্লাসিত সমর্থক এক রাজকীয় সংবর্ধনার মাধ্যমে তাদের নতুন মহাতারকাকে বরণ করে নেন।
লিভারপুলের হয়ে কাটানো ৯টি মৌসুমে সালাহ ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের পেছনে তার ছিল অসামান্য অবদান। তার ক্ষিপ্রগতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং গোল করার অসামান্য দক্ষতার কারণে তিনি বিশ্বজুড়ে ‘মিশরীয় রাজা’ বা ‘ফারাও’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তবে বর্তমান ফুটবল মৌসুমের দলবদলের বাজারে আকস্মিক এক বাঁকবদল ঘটে, যখন ট্রাবজনস্পোর কর্তৃপক্ষ তাকে দলে ভেড়ানোর জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করে। দুই পক্ষের সমঝোতার পর সালাহ ক্যারিয়ারে এক নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
তুরস্কে পৌঁছানোর পর পাপারা পার্ক স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি এক উৎসবে রূপ নেয়। গ্যালারিভর্তি সমর্থকরা লাল ও নীল রঙের বর্ণিল আতশবাজি ফাটিয়ে এবং সালাহর নামে স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। ক্লাব কর্তারাও এই চুক্তির মাধ্যমে কেবল মাঠে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে তাদের ক্লাবের ব্র্যান্ড ভ্যালু বহুগুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন। অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতির প্রকাশ করতে গিয়ে সালাহ বলেন, ট্রাবজনস্পোরের মতো আবেগপ্রবণ ও ঐতিহ্যের একটি ক্লাবের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের শীর্ষ স্থানীয় লিগ ছেড়ে তুর্কি লিগে সালাহর এই স্থানান্তর তার ক্যারিয়ারের শেষভাগে একটি নতুন মোড়। তার মতো বিশ্বমানের একজন খেলোয়াড় তুর্কি সুপার লিগের প্রতিযোগিতার মান ও আকর্ষণ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন। ট্রাবজনস্পোর ক্লাব ম্যানেজমেন্ট তাকে ঘিরে ঘরোয়া লিগ এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দারুণ কিছু অর্জনের পরিকল্পনা করছে। লিভারপুলের ঐতিহ্যবাহী লাল জার্সি গায়ের সুদিন পেছনে ফেলে এখন তুরস্কের মাটিতে নতুন ইতিহাস রচনার অপেক্ষায় রয়েছেন এই মিসরীয় আইকন।
রিপোর্টার নাম: 






















