Hi

০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরের পীরগঞ্জে ব্যাংক থেকে মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় দাদনের লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে ব্যাংক থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান জিয়া চতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী গোলাম রব্বানী উপজেলার সরলিয়া টিএম ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গত রোববার দুপুরের দিকে উপজেলার ব্যস্ততম চতরাহাট বাজারে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাষক গোলাম রব্বানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউর রহমানের মধ্যে সুদের বা দাদনের টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন দুপুরে শিক্ষক গোলাম রব্বানী চতরাহাট সোনালী ব্যাংক শাখায় আর্থিক কাজে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে জিয়াউর রহমান ও তাঁর বেশ কয়েকজন অনুসারী অতর্কিতভাবে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান। পরবর্তীতে বাজারের একটি স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আটকে রেখে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নির্যাতনে শিক্ষক গোলাম রব্বানী একপর্যায়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাজারের উপস্থিত সাধারণ মানুষ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পাওয়া মাত্রই পীরগঞ্জ থানার একটি পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং মুমূর্ষু অবস্থায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাঁকে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় গভীরভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকের পরিবার। ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করে আহত শিক্ষকের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কোনো ধরনের আইনি তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে ব্যাংক থেকে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তাতে আমরা পুরো পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া। মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, উল্টো গোলাম রব্বানীর কাছে তাঁর পাওনা টাকা রয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, গত বছর টাকা পরিশোধের কথা বলে তাঁকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিয়ে জিম্মি করা হয়েছিল এবং ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই একটি চক্র এ ধরনের মিথ্যা পরিকল্পনা সাজিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন তিনি কেবল তাঁর পাওনা টাকা ফেরত চেয়েছিলেন, কোনো ধরনের মারধরের ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

ঘটনার বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

জনপ্রিয়

গ্র্যামি ওয়েবসাইট থেকে বিটিএসের পরিবেশনার ভিডিও অপসারণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে আলোচনা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রংপুরের পীরগঞ্জে ব্যাংক থেকে মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ১০:৫৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় দাদনের লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে ব্যাংক থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান জিয়া চতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী গোলাম রব্বানী উপজেলার সরলিয়া টিএম ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গত রোববার দুপুরের দিকে উপজেলার ব্যস্ততম চতরাহাট বাজারে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাষক গোলাম রব্বানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউর রহমানের মধ্যে সুদের বা দাদনের টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন দুপুরে শিক্ষক গোলাম রব্বানী চতরাহাট সোনালী ব্যাংক শাখায় আর্থিক কাজে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে জিয়াউর রহমান ও তাঁর বেশ কয়েকজন অনুসারী অতর্কিতভাবে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান। পরবর্তীতে বাজারের একটি স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আটকে রেখে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নির্যাতনে শিক্ষক গোলাম রব্বানী একপর্যায়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাজারের উপস্থিত সাধারণ মানুষ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পাওয়া মাত্রই পীরগঞ্জ থানার একটি পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং মুমূর্ষু অবস্থায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাঁকে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় গভীরভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকের পরিবার। ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করে আহত শিক্ষকের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কোনো ধরনের আইনি তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে ব্যাংক থেকে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তাতে আমরা পুরো পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া। মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, উল্টো গোলাম রব্বানীর কাছে তাঁর পাওনা টাকা রয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, গত বছর টাকা পরিশোধের কথা বলে তাঁকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিয়ে জিম্মি করা হয়েছিল এবং ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই একটি চক্র এ ধরনের মিথ্যা পরিকল্পনা সাজিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন তিনি কেবল তাঁর পাওনা টাকা ফেরত চেয়েছিলেন, কোনো ধরনের মারধরের ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

ঘটনার বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।