মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের জন্য ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা বা প্রস্তাবের কথা শোনা গেলেও, ইরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পায়নি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানের পার্লামেন্টারি নিউজ এজেন্সির প্রধান মেহেদি রাহিমির আগের দাবি সরাসরি নাকচ হয়ে গেল। রাহিমি এর আগে আল-মায়াদিনকে জানিয়েছিলেন যে, ইরান এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান যৌথভাবে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই নতুন সামরিক জোট গঠনের মূল লক্ষ্য হলো পারস্পরিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং এটি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী পদক্ষেপ নয়। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ফয়সাল নিয়াজ তিরমিজি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ইরান বা মিসরের মতো প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তিগুলো যদি এই জোটে যুক্ত হতে চায়, তবে পাকিস্তানের তাতে কোনো আপত্তি নেই।
এদিকে, এই চুক্তিতে ইরানের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ইসরায়েলি দৈনিক ‘হারেতজ’-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে মিটভিম ইনস্টিটিউটের গবেষক কসেনিয়া সেভতলোভা সতর্ক করেছেন যে, ইরান যদি এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয়, তবে পুরো জোটের কাঠামোগত সমীকরণ আমূল বদলে যাবে।
গবেষকের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানের এমন অংশগ্রহণ অঞ্চলটিতে মার্কিন প্রভাব ও মর্যাদার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। এমন পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনোভাবেই সহজভাবে গ্রহণ করবে না বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 





















