Hi

০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ফ্যাসিবাদ যেন পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং আমরা নিজেরাও যেন ফ্যাসিস্ট আচরণ না করি, তা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের স্বাবলম্বী করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন, অন্ধকে আলো দেওয়ার মতো মহৎ কাজ আর হতে পারে না। তিন বছর আগে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের এই কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সেই সময় মাত্র ২০ দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই সহিংসতায় প্রায় ৩০০ মানুষ হাত, পা কিংবা মাথা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যা করেছে। অনেক পরিবার এখনো তাদের নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় দিন গুনছে, অথচ তাদের চোখে এখনো বেঁচে থাকার আলো রয়েছে।

যারা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যেখানেই থাকুন, চোখ খুলুন। নাগরিক হিসেবে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি আপনাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত। কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে দেশ গড়ার কাজে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের এমন একটি বাংলাদেশের পথে হাঁটতে হবে যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা ফ্যাসিস্টদের নৃশংসতা দেখতে পাচ্ছেন না, তাদের অন্তর চক্ষু খোলার পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ, নাত এবং রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল— ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি। এছাড়া ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হকও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘আসুন, একসঙ্গে হাঁটি, একসঙ্গে চলি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারাও মানুষ, তাদেরও অধিকার রয়েছে।’’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারও ভাই, কারও বোন, কারও মা, কারও স্বামী এখনো নিখোঁজ।

জনপ্রিয়

রবিউল আউয়ালের তাৎপর্য: মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের শিক্ষা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান আইনমন্ত্রীর

আপডেট : ০৩:০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যাসিবাদ যেন পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং আমরা নিজেরাও যেন ফ্যাসিস্ট আচরণ না করি, তা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের স্বাবলম্বী করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন, অন্ধকে আলো দেওয়ার মতো মহৎ কাজ আর হতে পারে না। তিন বছর আগে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের এই কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সেই সময় মাত্র ২০ দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই সহিংসতায় প্রায় ৩০০ মানুষ হাত, পা কিংবা মাথা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যা করেছে। অনেক পরিবার এখনো তাদের নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় দিন গুনছে, অথচ তাদের চোখে এখনো বেঁচে থাকার আলো রয়েছে।

যারা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যেখানেই থাকুন, চোখ খুলুন। নাগরিক হিসেবে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি আপনাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত। কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে দেশ গড়ার কাজে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের এমন একটি বাংলাদেশের পথে হাঁটতে হবে যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা ফ্যাসিস্টদের নৃশংসতা দেখতে পাচ্ছেন না, তাদের অন্তর চক্ষু খোলার পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ, নাত এবং রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল— ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি। এছাড়া ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হকও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘আসুন, একসঙ্গে হাঁটি, একসঙ্গে চলি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারাও মানুষ, তাদেরও অধিকার রয়েছে।’’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারও ভাই, কারও বোন, কারও মা, কারও স্বামী এখনো নিখোঁজ।