Hi

০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ২২ দিনে ছয়টি গুলিবর্ষণের ঘটনা, আতঙ্কে জনজীবন

চলতি আগস্ট মাসের ২২ দিনে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অন্তত ছয়টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব সন্ত্রাসী হামলায় স্কুলশিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীসহ অন্তত ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একের পর এক এসব ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার হয়নি এবং কোনো অবৈধ অস্ত্রও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উপজেলার আলাইয়ারপুর, গোপালপুর, চৌমুহনী পৌর হকার্স মার্কেট ও বাংলাবাজার এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

সর্বশেষ গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেগমগঞ্জের জিরাতলী ইউনিয়নের বাংলাবাজারে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে স্কুলশিক্ষক রাজিবুজ্জামান এবং দোকান কর্মচারী সাকিব ও নাজিম গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে ৬ আগস্ট মধ্যরাতে চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা বিএনপি নেতার সহযোগী ও ওষুধ ব্যবসায়ী ইয়াসিন সেন্টুর পেটে বিদ্ধ হয়।

৯ আগস্ট সন্ধ্যায় গোপালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে ওয়ার্ড যুবদল নেতা সোহাগ হোসেন সোহেলকে গুলি করা হয়। ১২ আগস্ট রাতে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ববাজার থেকে ফেরার পথে রাব্বি হোসেন ওরফে রাকিব নামের এক যুবককে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তার ডান পায়ের হাঁটুর পাশে গুলি করে। এছাড়া ১৭ আগস্ট আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের মোশকপুর গ্রামে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে তারা সবাই ছররা গুলিতে আহত হন।

এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা জানান, পশ্চিম অঞ্চলের চারটি ইউনিয়ন—ছয়ানী, আলাইয়ারপুর, আমানউল্যাহপুর ও গোপালগঞ্জে পেশাদার অস্ত্রধারীদের তৎপরতা দীর্ঘদিনের। তারা মূলত ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একের পর এক ঘটনা ঘটলেও পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না, যা সন্ত্রাসীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। তিনি প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি আরও যোগ করেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, সাম্প্রতিক গুলির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। তিনি স্বীকার করেন যে অপরাধীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তাদের আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করছে। ওসি আরও বলেন, অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা না থাকলেও ছয়ানী, আমানউল্যাহপুর, গোপালপুর, আলাইয়ারপুর এবং চৌমুহনী পৌর এলাকায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেশি। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব সন্ত্রাসী ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, দায়ী ব্যক্তি ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে পুলিশ সুস্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হামলায় অংশ নেওয়া অস্ত্রধারীরা সবাই মুখোশ পরা ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুখোশ পরা ১০ থেকে ১২ অস্ত্রধারী বাজারের পূর্ব গলি দিয়ে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর প্রধান সড়কে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর তাঁরা ওই এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের বাড়ির সামনের খালপাড়ে দাঁড়ানো ওয়ার্ড যুবদল নেতা সোহাগ হোসেন সোহেলকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেশ কিছু ছররা গুলি সোহেলের কোমরের বাঁ পাশে ও পিঠে বিদ্ধ হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অটোরিকশাটি নিয়ে আলাইয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ–সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে চার তরুণ তাঁর অটোরিকশার গতি রোধ করেন।

জনপ্রিয়

পুলিশের ১৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল: ডিআইজি ও এসপি পর্যায়ে বড় পরিবর্তন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ২২ দিনে ছয়টি গুলিবর্ষণের ঘটনা, আতঙ্কে জনজীবন

আপডেট : ১১:৪৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

চলতি আগস্ট মাসের ২২ দিনে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অন্তত ছয়টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব সন্ত্রাসী হামলায় স্কুলশিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীসহ অন্তত ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একের পর এক এসব ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার হয়নি এবং কোনো অবৈধ অস্ত্রও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উপজেলার আলাইয়ারপুর, গোপালপুর, চৌমুহনী পৌর হকার্স মার্কেট ও বাংলাবাজার এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

সর্বশেষ গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেগমগঞ্জের জিরাতলী ইউনিয়নের বাংলাবাজারে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে স্কুলশিক্ষক রাজিবুজ্জামান এবং দোকান কর্মচারী সাকিব ও নাজিম গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে ৬ আগস্ট মধ্যরাতে চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা বিএনপি নেতার সহযোগী ও ওষুধ ব্যবসায়ী ইয়াসিন সেন্টুর পেটে বিদ্ধ হয়।

৯ আগস্ট সন্ধ্যায় গোপালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে ওয়ার্ড যুবদল নেতা সোহাগ হোসেন সোহেলকে গুলি করা হয়। ১২ আগস্ট রাতে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ববাজার থেকে ফেরার পথে রাব্বি হোসেন ওরফে রাকিব নামের এক যুবককে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তার ডান পায়ের হাঁটুর পাশে গুলি করে। এছাড়া ১৭ আগস্ট আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের মোশকপুর গ্রামে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে তারা সবাই ছররা গুলিতে আহত হন।

এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা জানান, পশ্চিম অঞ্চলের চারটি ইউনিয়ন—ছয়ানী, আলাইয়ারপুর, আমানউল্যাহপুর ও গোপালগঞ্জে পেশাদার অস্ত্রধারীদের তৎপরতা দীর্ঘদিনের। তারা মূলত ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একের পর এক ঘটনা ঘটলেও পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না, যা সন্ত্রাসীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। তিনি প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি আরও যোগ করেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, সাম্প্রতিক গুলির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। তিনি স্বীকার করেন যে অপরাধীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তাদের আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করছে। ওসি আরও বলেন, অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা না থাকলেও ছয়ানী, আমানউল্যাহপুর, গোপালপুর, আলাইয়ারপুর এবং চৌমুহনী পৌর এলাকায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেশি। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব সন্ত্রাসী ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, দায়ী ব্যক্তি ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে পুলিশ সুস্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হামলায় অংশ নেওয়া অস্ত্রধারীরা সবাই মুখোশ পরা ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুখোশ পরা ১০ থেকে ১২ অস্ত্রধারী বাজারের পূর্ব গলি দিয়ে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর প্রধান সড়কে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর তাঁরা ওই এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের বাড়ির সামনের খালপাড়ে দাঁড়ানো ওয়ার্ড যুবদল নেতা সোহাগ হোসেন সোহেলকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেশ কিছু ছররা গুলি সোহেলের কোমরের বাঁ পাশে ও পিঠে বিদ্ধ হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অটোরিকশাটি নিয়ে আলাইয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ–সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে চার তরুণ তাঁর অটোরিকশার গতি রোধ করেন।