Hi

০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরম বিপদেও কেন মৃত্যু কামনা নয়? জীবনের সংকট ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

মানুষের জীবনে চলার পথে বিপর্যয়ের ঢেউ আছড়ে পড়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। পারিবারিক সংকট, আর্থিক টানাপোড়েন, প্রিয়জনের বিচ্ছেদ কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মানুষকে অনেক সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। যন্ত্রণার তীব্রতায় অনেক সময় মানুষের মন থেকে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে— ‘এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই ভালো।’ তবে ইসলামি জীবনদর্শন এই হতাশাকে সমর্থন করে না। বরং জীবনকে আল্লাহর দেওয়া একটি পরম আমানত হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রতিটি সংকটকে ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে মোকাবিলা করার শিক্ষা দেয়।

ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নবী-রাসূলদের জীবনও কণ্টকমুক্ত ছিল না। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় অসংখ্য পরীক্ষা ও শোকের মুখোমুখি হয়েছেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও পিতৃসম চাচা আবু তালিবকে হারিয়েছেন। সন্তানদের মৃত্যুর বেদনা সহ্য করেছেন এবং তায়েফের ময়দানে রক্তাক্ত হয়েছেন। তবুও তিনি প্রতিটি দুঃখের মুহূর্তে আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস রেখেছেন এবং বিপদকে ধৈর্য ও ইবাদতের উপলক্ষ বানিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ১৫৫ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ক্ষুধা, ভয়, ধনসম্পদ ও জীবনের হানি—এসবের মাধ্যমেই আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন। আর এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিসদের মতে, মানুষের জীবন কোনো দুর্ঘটনা বা আকস্মিকতার ফল নয়। বরং প্রতিটি নিঃশ্বাস আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। অনেক সময় যে বিপদকে মানুষ অশুভ মনে করে, তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে মহান রবের কোনো বিশেষ কল্যাণ বা প্রজ্ঞা। অনেক মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হওয়ার পরই আল্লাহর প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং অনুশোচনার চোখের পানিতে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পান। রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিস অনুযায়ী, কোনো মুমিনের দুঃখ-কষ্ট, এমনকি দুশ্চিন্তাও বিফলে যায় না; বরং এসবের বিনিময়ে আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দেন। এটি মুমিনের জন্য একটি বড় সান্ত্বনা।

মৃত্যু কামনা করা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। কারণ, ভবিষ্যৎ কারো জানা নেই। আজকের কষ্ট আগামীকালই আনন্দের জোয়ারে রূপ নিতে পারে, যা মানুষের কল্পনার বাইরে। নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন, কেউ যদি একান্তই কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়, তবে যেন মৃত্যুর কামনা না করে বরং প্রার্থনা করে, ‘হে আল্লাহ, যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর, ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন।’ জীবন যেহেতু মানুষের নিজস্ব অর্জন নয়, বরং স্রষ্টার আমানত, তাই এটিকে নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। নিরাশা বা হতাশা মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, অথচ আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রহমত থেকে যেন কেউ নিরাশ না হয়। চরম সংকটময় সময়েও ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই একজন মুমিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য।

জনপ্রিয়

সিলেটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: কারণ অনুসন্ধানে গঠন করা হলো ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চরম বিপদেও কেন মৃত্যু কামনা নয়? জীবনের সংকট ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

আপডেট : ০৪:৫০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

মানুষের জীবনে চলার পথে বিপর্যয়ের ঢেউ আছড়ে পড়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। পারিবারিক সংকট, আর্থিক টানাপোড়েন, প্রিয়জনের বিচ্ছেদ কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মানুষকে অনেক সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। যন্ত্রণার তীব্রতায় অনেক সময় মানুষের মন থেকে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে— ‘এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই ভালো।’ তবে ইসলামি জীবনদর্শন এই হতাশাকে সমর্থন করে না। বরং জীবনকে আল্লাহর দেওয়া একটি পরম আমানত হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রতিটি সংকটকে ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে মোকাবিলা করার শিক্ষা দেয়।

ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নবী-রাসূলদের জীবনও কণ্টকমুক্ত ছিল না। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় অসংখ্য পরীক্ষা ও শোকের মুখোমুখি হয়েছেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও পিতৃসম চাচা আবু তালিবকে হারিয়েছেন। সন্তানদের মৃত্যুর বেদনা সহ্য করেছেন এবং তায়েফের ময়দানে রক্তাক্ত হয়েছেন। তবুও তিনি প্রতিটি দুঃখের মুহূর্তে আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস রেখেছেন এবং বিপদকে ধৈর্য ও ইবাদতের উপলক্ষ বানিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ১৫৫ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ক্ষুধা, ভয়, ধনসম্পদ ও জীবনের হানি—এসবের মাধ্যমেই আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন। আর এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিসদের মতে, মানুষের জীবন কোনো দুর্ঘটনা বা আকস্মিকতার ফল নয়। বরং প্রতিটি নিঃশ্বাস আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। অনেক সময় যে বিপদকে মানুষ অশুভ মনে করে, তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে মহান রবের কোনো বিশেষ কল্যাণ বা প্রজ্ঞা। অনেক মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হওয়ার পরই আল্লাহর প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং অনুশোচনার চোখের পানিতে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পান। রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিস অনুযায়ী, কোনো মুমিনের দুঃখ-কষ্ট, এমনকি দুশ্চিন্তাও বিফলে যায় না; বরং এসবের বিনিময়ে আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দেন। এটি মুমিনের জন্য একটি বড় সান্ত্বনা।

মৃত্যু কামনা করা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। কারণ, ভবিষ্যৎ কারো জানা নেই। আজকের কষ্ট আগামীকালই আনন্দের জোয়ারে রূপ নিতে পারে, যা মানুষের কল্পনার বাইরে। নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন, কেউ যদি একান্তই কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়, তবে যেন মৃত্যুর কামনা না করে বরং প্রার্থনা করে, ‘হে আল্লাহ, যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর, ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন।’ জীবন যেহেতু মানুষের নিজস্ব অর্জন নয়, বরং স্রষ্টার আমানত, তাই এটিকে নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। নিরাশা বা হতাশা মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, অথচ আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রহমত থেকে যেন কেউ নিরাশ না হয়। চরম সংকটময় সময়েও ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই একজন মুমিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য।