Hi

১১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাসের তীব্র সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম: শিল্পকারখানায় উৎপাদন হ্রাস, জনদুর্ভোগ চরমে

গ্যাসের নজিরবিহীন সংকটে বর্তমানে চট্টগ্রাম অচল হয়ে পড়েছে। শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে গণপরিবহন ব্যবস্থা—সবক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘাটতি পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে এবং অনেক ভারী কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বিএসআরএমসহ বড় বড় ইস্পাত কারখানাগুলো কাঁচামাল ও জ্বালানির অভাবে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবহন খাতেও নেমে এসেছে বিপর্যয়। নগরীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাসের দেখা মিলছে না। গণপরিবহন সংকটের সুযোগে একশ্রেণির অসাধু চালক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সিএনজি অটোরিকশাচালকরা জানিয়েছেন, সারাদিন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে তাদের দৈনিক আয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, যা তাদের পরিবারকে আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

আবাসিক গ্রাহকদের অবস্থাও তথৈবচ। বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকে বিকল্প উপায় হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় লোডশেডিংয়ের সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। রাউজান ও আনোয়ারা অঞ্চলের বিদ্যুৎ ইউনিটগুলো গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)-এর উৎপাদন বন্ধ থাকা কৃষি খাতে সার সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। শিল্প মালিক এবং সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।

জনপ্রিয়

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার: আমিনুল হক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গ্যাসের তীব্র সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম: শিল্পকারখানায় উৎপাদন হ্রাস, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ০৯:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাসের নজিরবিহীন সংকটে বর্তমানে চট্টগ্রাম অচল হয়ে পড়েছে। শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে গণপরিবহন ব্যবস্থা—সবক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘাটতি পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে এবং অনেক ভারী কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বিএসআরএমসহ বড় বড় ইস্পাত কারখানাগুলো কাঁচামাল ও জ্বালানির অভাবে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবহন খাতেও নেমে এসেছে বিপর্যয়। নগরীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাসের দেখা মিলছে না। গণপরিবহন সংকটের সুযোগে একশ্রেণির অসাধু চালক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সিএনজি অটোরিকশাচালকরা জানিয়েছেন, সারাদিন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে তাদের দৈনিক আয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, যা তাদের পরিবারকে আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

আবাসিক গ্রাহকদের অবস্থাও তথৈবচ। বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকে বিকল্প উপায় হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় লোডশেডিংয়ের সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। রাউজান ও আনোয়ারা অঞ্চলের বিদ্যুৎ ইউনিটগুলো গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)-এর উৎপাদন বন্ধ থাকা কৃষি খাতে সার সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। শিল্প মালিক এবং সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।