শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও বেশি আধুনিক ও ফলপ্রসূ করতে গুগল ক্লাসরুমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সহকারী ‘জেমিনাই’ যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্লাসরুমের মাধ্যমেই কুইজ, ফ্ল্যাশকার্ড, স্টাডি গাইড এবং বিভিন্ন সহায়ক শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত করতে পারবেন। আগামী ১০ আগস্ট থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা ধাপে ধাপে উন্মুক্ত করা হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। গুগলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষা খাতের সঙ্গে জড়িত এই এআই টুলটি প্রথম গত বছর শিক্ষকদের পাঠ–পরিকল্পনা বা লেসন প্ল্যান তৈরিতে সহায়তা করার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সসীমার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এর পরিধি কিছুটা বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসকদের অনুমোদন সাপেক্ষে স্কুল ও কলেজের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরাও এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
নতুন এই আপডেট কার্যকর হলে গুগল ক্লাসরুমে একটি আলাদা ‘জেমিনাই ট্যাব’ যুক্ত করা হবে। এই ট্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আলাদা কোনো ফাইল বা ডেটা আপলোড করার ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি পাঠ্যবস্তুর ওপর ভিত্তি করে নানা ধরনের ইন্টারেক্টিভ কুইজ, ফ্ল্যাশকার্ড ও স্টাডি গাইড তৈরি করতে পারবেন। এছাড়া জেমিনাই নোটবুকের সহায়তায় কোনো জটিল বিষয়ের ওপর অডিও সারসংক্ষেপ, ইনফোগ্রাফিক এবং চিত্রভিত্তিক সারসংক্ষেপও তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় সাশ্রয় হবে এবং বিষয়গুলো বুঝতে আরও সুবিধা হবে।
গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুবিধা ব্যবহার করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে নির্দিষ্ট ক্লাস বা অ্যাসাইনমেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এরপর জেমিনাই নিজে থেকেই অ্যাসাইনমেন্টের শিরোনাম, শিক্ষকের দেওয়া সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা, ক্লাসের পাঠ্যসামগ্রী এবং সংশ্লিষ্ট কারিকুলাম বা পাঠ্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণ করে নিখুঁত উত্তর বা সহায়তা প্রস্তুত করে দেবে। এর ফলে বারবার প্রম্পট বা ডেটা কপি-পেস্ট করার ঝক্কি পোহাতে হবে না। পাশাপাশি, এটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা ও শেখার গতির ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত ও নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক সহায়তা প্রদান করবে।
বর্তমানে জেমিনাই এবং গুগল ক্লাসরুম যেসকল ভাষা সমর্থন করে, তার প্রায় সবকটিতেই এই নতুন এআই সেবাটি উপভোগ করা যাবে। এর ফলে ‘গুগল ওয়ার্কস্পেস ফর এডুকেশন ফান্ডামেন্টালস’, ‘এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ড’ এবং ‘এডুকেশন প্লাস’ সংস্করণ ব্যবহারকারী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুব সহজেই এই প্রযুক্তিগত সুবিধা নিজেদের কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। শিক্ষা খাতের ডিজিটাল রূপান্তর এবং আধুনিকায়নের পথে গুগলের এই পদক্ষেপ এক নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার নাম: 






















