Hi

০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:১৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষকদের সম্মানিত ও উৎসাহিত করতে নতুন উদ্ভাবন এবং কৃষিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। কৃষিকে দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকের ঘাম-পরিশ্রম, উচ্চফলনশীল নতুন জাত ও কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। এতে কৃষক যেন সঠিক দাম পান, সে বিষয়েও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ ও আলোচনা

সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম। এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকেরা দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ, তারা দেশ গড়ার প্রকৃত যোদ্ধা। কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে কৃষকদের দাবিগুলোকে একটি সুসংগঠিত আন্দোলনে রূপান্তরের পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান যে, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও উন্নয়নে সরকার নতুন একটি স্কিম চালু করেছে, যার আওতায় ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বানও জানান তিনি।

কৃষকদের উত্থাপিত দাবি ও রাষ্ট্রপতির পর্যবেক্ষণ

  • কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা।
  • কৃষক দিবস উদযাপন ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার প্রবর্তন।
  • শস্যবীমা চালু করা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
  • বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেন যে, কৃষকেরা সাধারণত দুর্নীতিমুক্ত থাকেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে নিরলস অবদান রাখেন। কৃষিপণ্য ও শস্য সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে সমিতির সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পকারখানা, আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং খামারে সৌরপ্যানেল ব্যবহারের ওপর জোর দেন। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের উচ্চ সুদ কমানোর বিষয়েও তিনি উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মেলা আয়োজন

সাক্ষাৎকালে সমিতির সভাপতি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন যে, ঈশ্বরদীতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্যের প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে একটি মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি এতে উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বঙ্গভবনের এ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবেরাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের বর্তমান গৃহীত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা অচিরেই এর সুফল পাবেন এবং দেশের কৃষি খাতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। কৃষি খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে তিনি মনে করেন।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ০৮:১৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষকদের সম্মানিত ও উৎসাহিত করতে নতুন উদ্ভাবন এবং কৃষিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। কৃষিকে দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকের ঘাম-পরিশ্রম, উচ্চফলনশীল নতুন জাত ও কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। এতে কৃষক যেন সঠিক দাম পান, সে বিষয়েও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ ও আলোচনা

সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম। এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকেরা দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ, তারা দেশ গড়ার প্রকৃত যোদ্ধা। কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে কৃষকদের দাবিগুলোকে একটি সুসংগঠিত আন্দোলনে রূপান্তরের পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান যে, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও উন্নয়নে সরকার নতুন একটি স্কিম চালু করেছে, যার আওতায় ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বানও জানান তিনি।

কৃষকদের উত্থাপিত দাবি ও রাষ্ট্রপতির পর্যবেক্ষণ

  • কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা।
  • কৃষক দিবস উদযাপন ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার প্রবর্তন।
  • শস্যবীমা চালু করা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
  • বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেন যে, কৃষকেরা সাধারণত দুর্নীতিমুক্ত থাকেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে নিরলস অবদান রাখেন। কৃষিপণ্য ও শস্য সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে সমিতির সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পকারখানা, আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং খামারে সৌরপ্যানেল ব্যবহারের ওপর জোর দেন। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের উচ্চ সুদ কমানোর বিষয়েও তিনি উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মেলা আয়োজন

সাক্ষাৎকালে সমিতির সভাপতি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন যে, ঈশ্বরদীতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্যের প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে একটি মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি এতে উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বঙ্গভবনের এ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবেরাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের বর্তমান গৃহীত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা অচিরেই এর সুফল পাবেন এবং দেশের কৃষি খাতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। কৃষি খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে তিনি মনে করেন।