Hi

০২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাবারে গোলাপজল ও কেওড়াজল ব্যবহারে সতর্কতা: বিষাক্ত রাসায়নিকের ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

জনপ্রিয় সুগন্ধি গোলাপজল ও কেওড়াজল ব্যবহার নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। বিরিয়ানি, পোলাও, জর্দা বা মিষ্টান্ন জাতীয় খাবারে সুগন্ধ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত এসব তরল এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, বাজারে প্রচলিত অনেক পণ্যের গায়ে ‘ফুড গ্রেড’ বা ‘খাদ্যোপযোগী’ উল্লেখ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলোতে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত রাসায়নিকের উপস্থিতিও কোনো কোনো নমুনায় শনাক্ত হয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকার মিটফোর্ড ও ডেমরা এলাকায় পরিচালিত বেশ কয়েকটি অভিযানে ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ে। বিএফএসএ-এর তথ্যমতে, কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত সুগন্ধিতে সিনথেটিক গ্রেডের এমন রাসায়নিক ব্যবহার করছে যা কোনোভাবেই মানবদেহের জন্য নিরাপদ নয়। ডেমরার ‘হাইকো কনজ্যুমার প্রোডাক্টস’-এর মতো প্রতিষ্ঠানে অভিযানের সময় কিডনি ডায়ালাইসিসের কাজে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক জব্দ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বিভ্রান্তিকর লেবেলিং এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ‘মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭’ অনুযায়ী, খাদ্যে ব্যবহৃত সুগন্ধির ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উপাদানের স্পষ্ট উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ অনেক পণ্যের লেবেলে শুধু ‘বিশুদ্ধ পানি’ ও ‘ফ্লেভার’ লিখে দায় সারা হচ্ছে। অনেক সময় উৎপাদকরা দাবি করেন যে, তাদের পণ্য খাওয়ার জন্য নয়, বরং ধর্মীয় আচার বা মৃতদেহের জন্য তৈরি। কিন্তু একই পণ্য যখন ‘ফুড গ্রেড’ হিসেবে বাজারজাত করা হয়, তখন সাধারণ ভোক্তারা বিভ্রান্ত হয়ে সেগুলো রান্নায় ব্যবহার করেন।

বিএফএসএ-এর সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, তারা মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করেছেন এবং বাবুর্চিদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার পরিকল্পনা করছেন। তিনি আরও জানান, অনেক কোম্পানি আইনি ফাঁকফোকর খুঁজতে গিয়ে পণ্যের গায়ে ‘খাদ্যোপযোগী নয়’ লিখতে অস্বীকৃতি জানায়। এমতাবস্থায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ লেবেলিংবিহীন কোনো সুগন্ধি কেনা বা খাবারে ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত এসব সুগন্ধির মান নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইকবাল রউফ মামুন বলেন, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে লেবেলিং নিশ্চিত করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে গুণগত মান যাচাই করতে হবে। ভোক্তাদের প্রতি পরামর্শ হলো—কোনো পণ্য কেনার আগে তার উপাদানের তালিকা ও অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া, কারণ কেবল নাম দেখে পণ্য কেনা এখন আর নিরাপদ নয়।

জনপ্রিয়

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে বাড়তি অনুপ্রেরণার প্রয়োজন নেই: শান্ত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

খাবারে গোলাপজল ও কেওড়াজল ব্যবহারে সতর্কতা: বিষাক্ত রাসায়নিকের ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

আপডেট : ১১:৪৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

জনপ্রিয় সুগন্ধি গোলাপজল ও কেওড়াজল ব্যবহার নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। বিরিয়ানি, পোলাও, জর্দা বা মিষ্টান্ন জাতীয় খাবারে সুগন্ধ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত এসব তরল এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, বাজারে প্রচলিত অনেক পণ্যের গায়ে ‘ফুড গ্রেড’ বা ‘খাদ্যোপযোগী’ উল্লেখ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলোতে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত রাসায়নিকের উপস্থিতিও কোনো কোনো নমুনায় শনাক্ত হয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকার মিটফোর্ড ও ডেমরা এলাকায় পরিচালিত বেশ কয়েকটি অভিযানে ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ে। বিএফএসএ-এর তথ্যমতে, কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত সুগন্ধিতে সিনথেটিক গ্রেডের এমন রাসায়নিক ব্যবহার করছে যা কোনোভাবেই মানবদেহের জন্য নিরাপদ নয়। ডেমরার ‘হাইকো কনজ্যুমার প্রোডাক্টস’-এর মতো প্রতিষ্ঠানে অভিযানের সময় কিডনি ডায়ালাইসিসের কাজে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক জব্দ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বিভ্রান্তিকর লেবেলিং এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ‘মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭’ অনুযায়ী, খাদ্যে ব্যবহৃত সুগন্ধির ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উপাদানের স্পষ্ট উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ অনেক পণ্যের লেবেলে শুধু ‘বিশুদ্ধ পানি’ ও ‘ফ্লেভার’ লিখে দায় সারা হচ্ছে। অনেক সময় উৎপাদকরা দাবি করেন যে, তাদের পণ্য খাওয়ার জন্য নয়, বরং ধর্মীয় আচার বা মৃতদেহের জন্য তৈরি। কিন্তু একই পণ্য যখন ‘ফুড গ্রেড’ হিসেবে বাজারজাত করা হয়, তখন সাধারণ ভোক্তারা বিভ্রান্ত হয়ে সেগুলো রান্নায় ব্যবহার করেন।

বিএফএসএ-এর সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, তারা মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করেছেন এবং বাবুর্চিদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার পরিকল্পনা করছেন। তিনি আরও জানান, অনেক কোম্পানি আইনি ফাঁকফোকর খুঁজতে গিয়ে পণ্যের গায়ে ‘খাদ্যোপযোগী নয়’ লিখতে অস্বীকৃতি জানায়। এমতাবস্থায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ লেবেলিংবিহীন কোনো সুগন্ধি কেনা বা খাবারে ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত এসব সুগন্ধির মান নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইকবাল রউফ মামুন বলেন, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে লেবেলিং নিশ্চিত করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে গুণগত মান যাচাই করতে হবে। ভোক্তাদের প্রতি পরামর্শ হলো—কোনো পণ্য কেনার আগে তার উপাদানের তালিকা ও অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া, কারণ কেবল নাম দেখে পণ্য কেনা এখন আর নিরাপদ নয়।