Hi

০১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেট ইতিহাসের মহানায়ক স্যার গ্যারি সোবার্স এবং স্মৃতির আয়নায় সোনালী সেই দিনগুলো

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ক্রিকেট বিশ্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈরথ মানেই ছিল চরম রোমাঞ্চ ও উত্তেজনার এক অনন্য অধ্যায়। ১৯৫৯ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান সফরে ক্যারিবীয় দলের আগমন তৎকালীন কিশোর মনে ক্রিকেটের বীজ রোপণ করেছিল গভীরভাবে। সে যুগে রেডিওর ধারাভাষ্য বা খবরের কাগজের পাতার বাইরে খেলা উপভোগের অন্য কোনো মাধ্যম ছিল না। বর্তমানের রঙিন ও জাঁকজমকপূর্ণ ক্রিকেটের ভিড়ে সেই আমলের ধ্রুপদি ক্রিকেটচর্চা এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্সের ক্যারিজমা এক অন্য মাত্রার নস্টালজিয়া তৈরি করে।

পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সেই ঐতিহাসিক সিরিজে হানিফ মোহাম্মদের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং তরুণ গারফিল্ড সোবার্সের ব্যাট হাতে বিশ্বরেকর্ড গড়ার ঘটনা বিশ্বক্রিকেটকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। করাচি, লাহোর ও ঢাকার সেই তিন টেস্টের সিরিজ শুধু খেলার উন্মাদনা বাড়ায়নি, বরং তৎকালীন প্রজন্মের মনে ক্রিকেট নিয়ে এক গভীর আবেগের জন্ম দিয়েছিল। টেলিভিশনহীন সে সময়ে পাড়ার রেস্তোরাঁ বা হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে ইংরেজি ধারাভাষ্য শোনার সেই স্মৃতি ক্রিকেটপ্রেমের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির আধুনিক যুগে পরিসংখ্যানের জাদুকররা হয়তো অনেক রেকর্ড ভেঙেছেন, কিন্তু গ্যারি সোবার্সের সাবলীল অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং খেলার প্রতি তাঁর নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

পরবর্তী সময়ে শঙ্করীপ্রসাদ বসুর বিখ্যাত ক্রিকেট বিষয়ক বই বা প্রাচীন খবরের কাগজের কাটিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিবীয় ক্রিকেট এবং সোবার্সের অনন্য কীর্তিগুলো আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ মিলেছে। ৯০ বছর বয়সে জীবনাবসান হওয়া এই কিংবদন্তি শুধু একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি ছিলেন ক্রিকেটীয় শৌর্য, শালীনতা ও শিল্পের সর্বোচ্চ প্রতীক। আধুনিক ক্রিকেটের বাণিজ্যিক বাড়াবাড়ির যুগেও গ্যারি সোবার্স ও তাঁর সমসাময়িক সময়ের ধ্রুপদি শিল্পসত্তা ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।

কুমিল্লায় ভবন নির্মাণের ১৫০০ নকশা অনুমোদনের অপেক্ষায়

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ক্রিকেট ইতিহাসের মহানায়ক স্যার গ্যারি সোবার্স এবং স্মৃতির আয়নায় সোনালী সেই দিনগুলো

আপডেট : ১২:২২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ক্রিকেট বিশ্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈরথ মানেই ছিল চরম রোমাঞ্চ ও উত্তেজনার এক অনন্য অধ্যায়। ১৯৫৯ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান সফরে ক্যারিবীয় দলের আগমন তৎকালীন কিশোর মনে ক্রিকেটের বীজ রোপণ করেছিল গভীরভাবে। সে যুগে রেডিওর ধারাভাষ্য বা খবরের কাগজের পাতার বাইরে খেলা উপভোগের অন্য কোনো মাধ্যম ছিল না। বর্তমানের রঙিন ও জাঁকজমকপূর্ণ ক্রিকেটের ভিড়ে সেই আমলের ধ্রুপদি ক্রিকেটচর্চা এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্সের ক্যারিজমা এক অন্য মাত্রার নস্টালজিয়া তৈরি করে।

পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সেই ঐতিহাসিক সিরিজে হানিফ মোহাম্মদের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং তরুণ গারফিল্ড সোবার্সের ব্যাট হাতে বিশ্বরেকর্ড গড়ার ঘটনা বিশ্বক্রিকেটকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। করাচি, লাহোর ও ঢাকার সেই তিন টেস্টের সিরিজ শুধু খেলার উন্মাদনা বাড়ায়নি, বরং তৎকালীন প্রজন্মের মনে ক্রিকেট নিয়ে এক গভীর আবেগের জন্ম দিয়েছিল। টেলিভিশনহীন সে সময়ে পাড়ার রেস্তোরাঁ বা হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে ইংরেজি ধারাভাষ্য শোনার সেই স্মৃতি ক্রিকেটপ্রেমের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির আধুনিক যুগে পরিসংখ্যানের জাদুকররা হয়তো অনেক রেকর্ড ভেঙেছেন, কিন্তু গ্যারি সোবার্সের সাবলীল অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং খেলার প্রতি তাঁর নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

পরবর্তী সময়ে শঙ্করীপ্রসাদ বসুর বিখ্যাত ক্রিকেট বিষয়ক বই বা প্রাচীন খবরের কাগজের কাটিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিবীয় ক্রিকেট এবং সোবার্সের অনন্য কীর্তিগুলো আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ মিলেছে। ৯০ বছর বয়সে জীবনাবসান হওয়া এই কিংবদন্তি শুধু একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি ছিলেন ক্রিকেটীয় শৌর্য, শালীনতা ও শিল্পের সর্বোচ্চ প্রতীক। আধুনিক ক্রিকেটের বাণিজ্যিক বাড়াবাড়ির যুগেও গ্যারি সোবার্স ও তাঁর সমসাময়িক সময়ের ধ্রুপদি শিল্পসত্তা ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।