Hi

১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক শান্তি ও অবকাশ: ইসলাম যেভাবে ছুটি কাটানোর দিকনির্দেশনা দেয়

আধুনিক ও কর্মব্যস্ত নাগরিক জীবনে মানুষের কায়িক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করার জন্য বার্ষিক বা নিয়মিত ছুটির বিকল্প নেই। ইসলাম ধর্মেও দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এবং নতুন উদ্দীপনায় কাজে ফিরে যেতে অবকাশ বা ছুটির অনুমোদন রয়েছে। তবে এই অবসর সময়টি কীভাবে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ করা যায়, সে বিষয়ে ইসলাম সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা ও শিষ্টাচার প্রদান করেছে। শরিয়তের গণ্ডির মধ্যে থেকে বৈধ বিনোদন এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জনের জন্য মুমিনদের বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ইসলামের দৃষ্টিতে বিনোদন বা অবকাশ যাপন কোনো অন্যায় বা অপকর্ম নয়। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সাহাবি হজরত হানজালা (রা.) একবার নবীজি (সা.)-এর দরবারে নিজের অন্তরের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে মহানবী তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন যে, সব সময় আধ্যাত্মিক উচ্চতা বা একটি নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থা বজায় রাখা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। জীবনের প্রয়োজনে কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম ও বিনোদনেরও প্রয়োজন রয়েছে। এমনকি ইসলামে বৈধ আনন্দ-ফুর্তি, সাঁতার কাটা, ঘোরাঘুরি বা ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে, যা মানুষের মানসিক শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। তবে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আল্লামা তাহির ইবনে আশুর (রহ.)-এর মতে, এই বিনোদন যেন মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়ে তাকে কর্মবিমুখ বা অলস করে না তোলে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

একটি ফলপ্রসূ ও আনন্দদায়ক ছুটি উপভোগের জন্য ৮টি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা মেনে চলা যেতে পারে। প্রথমত, বিনোদন কখনোই যেন শরিয়তবহির্ভূত বা পাপে পরিণত না হয়। ইসলামে হালাল উপায়ে আনন্দ উপভোগের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ছুটির আনন্দে মগ্ন হয়ে ফরজ ইবাদত বা নামাজে গাফিলতি করা যাবে না। চরম ব্যস্ততা বা ভ্রমণের মধ্যেও নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ছুটির দিনগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও লক্ষ্য থাকা জরুরি। উদ্দেশ্যহীনভাবে সময় কাটানো কেবল অপচয়ই ডেকে আনে। চতুর্থত, নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই এবং মনের প্রশান্তি আনে এমন মাধ্যম বেছে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতিপ্রেমিক হলে সবুজের সমারোহ কিংবা কোলাহলমুক্ত স্থান নির্বাচন করা যেতে পারে।

পঞ্চম পয়েন্ট হিসেবে, ছুটির সফলতার পেছনে ভালো সঙ্গীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৎ ও ভালো সঙ্গী মানুষকে যেমন ভালো কাজে উৎসাহিত করে, তেমনি খারাপ সঙ্গী পুরো ভ্রমণ বা অবকাশের অভিজ্ঞতা নষ্ট করে দিতে পারে। ষষ্ঠত, যেকোনো কাজের জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন ওমরাহ পালনের জন্য রমজান বা উপযুক্ত মৌসুম কিংবা প্রকৃতি ভ্রমণের জন্য অনুকূল আবহাওয়া বেছে নেওয়া উচিত। সপ্তমত, উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা দরকার। নির্জনতা চাইলে নিভৃত স্থান এবং জনবহুল এলাকা চাইলে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বেছে নেওয়া যেতে পারে। পরিশেষে, ভ্রমণ বা ছুটি শেষে নিরাপদে ফিরে আসার পর এবং মন প্রফুল্ল হলে মহান আল্লাহর দরবারে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন। সব মিলিয়ে, সঠিক পরিকল্পনা এবং নৈতিকতার ভারসাম্য বজায় রাখলে ছুটির প্রতিটি মুহূর্ত মানসিক প্রশান্তি ও সওয়াবের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয়

৩০ বছরের বিশ্বভ্রমণ: লি ও ম্যান্ডির প্রেম, ১২৭ দেশ ও বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ টান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক শান্তি ও অবকাশ: ইসলাম যেভাবে ছুটি কাটানোর দিকনির্দেশনা দেয়

আপডেট : ১০:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

আধুনিক ও কর্মব্যস্ত নাগরিক জীবনে মানুষের কায়িক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করার জন্য বার্ষিক বা নিয়মিত ছুটির বিকল্প নেই। ইসলাম ধর্মেও দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এবং নতুন উদ্দীপনায় কাজে ফিরে যেতে অবকাশ বা ছুটির অনুমোদন রয়েছে। তবে এই অবসর সময়টি কীভাবে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ করা যায়, সে বিষয়ে ইসলাম সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা ও শিষ্টাচার প্রদান করেছে। শরিয়তের গণ্ডির মধ্যে থেকে বৈধ বিনোদন এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জনের জন্য মুমিনদের বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ইসলামের দৃষ্টিতে বিনোদন বা অবকাশ যাপন কোনো অন্যায় বা অপকর্ম নয়। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সাহাবি হজরত হানজালা (রা.) একবার নবীজি (সা.)-এর দরবারে নিজের অন্তরের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে মহানবী তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন যে, সব সময় আধ্যাত্মিক উচ্চতা বা একটি নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থা বজায় রাখা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। জীবনের প্রয়োজনে কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম ও বিনোদনেরও প্রয়োজন রয়েছে। এমনকি ইসলামে বৈধ আনন্দ-ফুর্তি, সাঁতার কাটা, ঘোরাঘুরি বা ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে, যা মানুষের মানসিক শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। তবে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আল্লামা তাহির ইবনে আশুর (রহ.)-এর মতে, এই বিনোদন যেন মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়ে তাকে কর্মবিমুখ বা অলস করে না তোলে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

একটি ফলপ্রসূ ও আনন্দদায়ক ছুটি উপভোগের জন্য ৮টি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা মেনে চলা যেতে পারে। প্রথমত, বিনোদন কখনোই যেন শরিয়তবহির্ভূত বা পাপে পরিণত না হয়। ইসলামে হালাল উপায়ে আনন্দ উপভোগের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ছুটির আনন্দে মগ্ন হয়ে ফরজ ইবাদত বা নামাজে গাফিলতি করা যাবে না। চরম ব্যস্ততা বা ভ্রমণের মধ্যেও নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ছুটির দিনগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও লক্ষ্য থাকা জরুরি। উদ্দেশ্যহীনভাবে সময় কাটানো কেবল অপচয়ই ডেকে আনে। চতুর্থত, নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই এবং মনের প্রশান্তি আনে এমন মাধ্যম বেছে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতিপ্রেমিক হলে সবুজের সমারোহ কিংবা কোলাহলমুক্ত স্থান নির্বাচন করা যেতে পারে।

পঞ্চম পয়েন্ট হিসেবে, ছুটির সফলতার পেছনে ভালো সঙ্গীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৎ ও ভালো সঙ্গী মানুষকে যেমন ভালো কাজে উৎসাহিত করে, তেমনি খারাপ সঙ্গী পুরো ভ্রমণ বা অবকাশের অভিজ্ঞতা নষ্ট করে দিতে পারে। ষষ্ঠত, যেকোনো কাজের জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন ওমরাহ পালনের জন্য রমজান বা উপযুক্ত মৌসুম কিংবা প্রকৃতি ভ্রমণের জন্য অনুকূল আবহাওয়া বেছে নেওয়া উচিত। সপ্তমত, উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা দরকার। নির্জনতা চাইলে নিভৃত স্থান এবং জনবহুল এলাকা চাইলে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বেছে নেওয়া যেতে পারে। পরিশেষে, ভ্রমণ বা ছুটি শেষে নিরাপদে ফিরে আসার পর এবং মন প্রফুল্ল হলে মহান আল্লাহর দরবারে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন। সব মিলিয়ে, সঠিক পরিকল্পনা এবং নৈতিকতার ভারসাম্য বজায় রাখলে ছুটির প্রতিটি মুহূর্ত মানসিক প্রশান্তি ও সওয়াবের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।